{{ news.section.title }}
সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ শুনলে যে দোয়া পড়বেন
দোয়া ইসলামে ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি-প্রতিটি অবস্থায় বান্দা দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে। ইসলাম মানুষকে শুধু বিপদের সময় আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে শেখায় না; বরং ভালো সংবাদ, সাফল্য ও আনন্দের মুহূর্তেও আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের শিক্ষা দেয়।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ-দুই অবস্থার জন্যই উম্মতকে সুন্দর দোয়া শিখিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো পছন্দনীয় বিষয় দেখতেন, তখন বলতেন-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি বিনি‘মাতিহি তাতিম্মুস সালিহাত।
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যার নেয়ামতের মাধ্যমে ভালো কাজগুলো পূর্ণতা পায়। সুনানে ইবনে মাজাহর হাদিসে এ দোয়াটি বর্ণিত হয়েছে। একই হাদিসে আরও আছে, অপছন্দনীয় কোনো কিছু দেখলে নবীজি বলতেন, “আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল”-অর্থাৎ সব অবস্থাতেই আল্লাহর প্রশংসা।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সুসংবাদের সময় এই দোয়া পড়া বান্দাকে অহংকার থেকে দূরে রাখে। কারণ মানুষ যখন কোনো সাফল্য, ভালো সংবাদ বা কাঙ্ক্ষিত ফল পায়, তখন সে বুঝতে শেখে-সব অর্জন আল্লাহর অনুগ্রহে। তাই আনন্দের মুহূর্তেও মুমিনের প্রথম কাজ হলো আল্লাহর প্রশংসা করা।
অন্যদিকে দুঃসংবাদ, বিপদ, ক্ষতি বা মৃত্যুর সংবাদ শুনলে পড়ার জন্য কোরআনে এসেছে-
إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
উচ্চারণ: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
অর্থ: নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ১৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা বিপদে পড়লে এ কথা বলে, তারা ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত। পরের আয়াতে তাদের জন্য আল্লাহর রহমত ও হেদায়াতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
এই দোয়াটি শুধু মৃত্যুসংবাদে সীমাবদ্ধ নয়; যেকোনো বিপদ, ক্ষতি, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা মন খারাপের সংবাদেও পড়া যায়। ইসলামি সূত্রগুলোতে এটিকে “ইস্তিরজা” বলা হয়, যার মূল শিক্ষা হলো-মানুষ, সম্পদ, জীবন ও সময় সবই আল্লাহর দেওয়া আমানত; একদিন সবকিছু তাঁর কাছেই ফিরে যাবে।
হাদিসে বিপদের সময় আরও একটি দোয়া পড়ার শিক্ষা পাওয়া যায়: “আল্লাহুম্মা আজুরনি ফি মুসিবাতি, ওয়া আখলিফ লি খাইরাম মিনহা”-অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আমার বিপদের বিনিময়ে আমাকে প্রতিদান দিন এবং এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন। উম্মে সালামাহ (রা.)-এর ঘটনা থেকে জানা যায়, বিপদের সময় এই দোয়া মুমিনের মনে আশা, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভরসা জাগিয়ে তোলে।
আলেমরা বলেন, মুমিনের জীবন দুই অবস্থার মধ্যে আবর্তিত-নিয়ামত ও পরীক্ষা। নিয়ামত এলে শুকরিয়া, আর পরীক্ষা এলে ধৈর্য-এই দুই গুণই তাকে আল্লাহর নৈকট্যের পথে এগিয়ে নেয়। তাই সুসংবাদে “আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি বিনি‘মাতিহি তাতিম্মুস সালিহাত” এবং দুঃসংবাদে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পাঠ করা শুধু একটি বাক্য উচ্চারণ নয়; বরং এটি মুমিনের বিশ্বাস, আত্মসমর্পণ ও আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থার প্রকাশ।