আজকের নামাজের সময়সূচি: ২০ মে ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২০ মে ২০২৬
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মুসলমানদের জন্য ফরজ ইবাদত। সময়মতো নামাজ আদায়ের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন এবং তার জীবনে শৃঙ্খলা, আত্মসংযম ও মানসিক প্রশান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআনেও নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

নামাজ মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের মাঝেও নিয়মিত নামাজ আদায় একজন মুসলমানকে আধ্যাত্মিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস প্রদান করে। তাই দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা অর্জনের জন্য সময়মতো নামাজ আদায়ে সচেতন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

আজ বুধবার, ২০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২ যিলহজ্জ ১৪৪৭ হিজরি। চলুন জেনে নিই ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি-

 

ফজর
শুরু: ভোর ৩টা ৫০ মিনিট
শেষ: সূর্যোদয় সকাল ৫টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত

 

জোহর
শুরু: দুপুর ১১টা ৫৬ মিনিট
শেষ: বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত

 

আসর
শুরু: বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিট
শেষ: সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত

 

মাগরিব
শুরু: সন্ধ্যা ৬টা ৩৯ মিনিট
শেষ: রাত ৭টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত

 

এশা
শুরু: রাত ৮টা ০০ মিনিট
শেষ: মধ্যরাত পর্যন্ত (তবে পরদিন ফজরের আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়)

 

প্রতিদিন সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে নামাজের সময় সামান্য পরিবর্তিত হয়। তাই নিয়মিত হালনাগাদ সময়সূচি দেখে নামাজ আদায় করা উত্তম।

বিভাগীয় শহরভেদে সময় সমন্বয়

ঢাকার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে অন্যান্য বিভাগে নামাজের সময় কিছুটা যোগ বা বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ করতে হবে:

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট
সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ করতে হবে:

খুলনা: ৩ মিনিট
রাজশাহী: ৭ মিনিট
রংপুর: ৮ মিনিট
বরিশাল: ১ মিনিট

অর্থাৎ, ঢাকার সময়ের সঙ্গে উল্লেখিত সময় যোগ বা বিয়োগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

 

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কত রাকাত

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ রয়েছে। এ ছাড়া ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে, যা নবীজি (সা.) নিয়মিত আদায় করতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আরও কিছু সুন্নতে যায়েদা রয়েছে, যা নবীজি (সা.) মাঝে মাঝে আদায় করতেন। আর ইশার নামাজের পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।

ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা অপরিহার্য। এগুলো ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। কোনো কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে ছুটে গেলে পরে তা কাজা করে নিতে হবে। অন্যদিকে, সুন্নতে মুআক্কাদা ও সুন্নতে যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যাবে, তবে তা আদায় না করলে গুনাহ হবে না।

 

নিচে ওয়াক্তভিত্তিক রাকাতসংখ্যা তুলে ধরা হলোঃ -

ফজর

ফজরের ফরজ নামাজ ২ রাকাত। ফরজের আগে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

 

জোহর

জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

 

আসর

আসরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা।

 

মাগরিব

মাগরিবের ফরজ নামাজ ৩ রাকাত। ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

 

ইশা

ইশার ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা এবং ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা। ইশার ফরজ ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।

 

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব

 

পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ইসলামে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় ফরজ ঘোষণা করে বলেন, নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। (সুরা নিসা: ১০৩)

 

ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়ার ভয়াবহতা বোঝাতে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল, সে কুফুরি করল। (সুনানে তিরমিজি: ২১১৩)


নবীজি (সা.) আরও বলেন, বান্দা আর শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ১৪৮)

 

আখিরাতেও নামাজের হিসাবই হবে সবার আগে। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সবচেয়ে আগে তার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। সেটি যদি যথাযথ পাওয়া যায়, তবে সে সফল হয়ে গেলো এবং মুক্তি পেয়ে গেলো। আর যদি তাতে ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (সহিহ জামে সগির: ২০২০)

 

নামাজ কেবল একটি ইবাদতই নয়, এটি একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের মূল ভিত্তি। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় মানুষকে আল্লাহর স্মরণে সচল রাখে, আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করে এবং জীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। তাই সময়সূচি জানা, রাকাতের সংখ্যা বোঝা এবং নামাজের তাৎপর্য অনুধাবন করে নিয়মিতভাবে আদায়ে যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।

 


সম্পর্কিত নিউজ