{{ news.section.title }}
শরীর ভালো রাখতে কেন খাবেন আতা ফল? জেনে নিন
মিষ্টি স্বাদ, নরম শাঁস ও দারুণ ঘ্রাণের কারণে আতাফল অনেকের কাছেই অত্যন্ত পছন্দের একটি ফল। অঞ্চলভেদে এই ফলকে আতা, শরিফা বা নোনা ফল নামেও ডাকা হয়। শুধু স্বাদের জন্য নয়, বরং পুষ্টিগুণের কারণেও বর্তমানে ফলটি পুষ্টিবিদদের নজরে এসেছে। ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশে ভরপুর এই ফল শরীরের নানা উপকারে আসে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আতাফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও খাদ্যআঁশ। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ভিটামিন সি শরীরকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করে এবং কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতেও আতাফল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক। একইসঙ্গে খাদ্যআঁশ শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে, ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও কিছুটা কমে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর
আতাফল পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস। এই দুটি উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় এই ফল রাখতে পারেন।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
এই ফলে থাকা খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী
আতাফলে থাকা ফাইবার শরীরে চিনি শোষণের গতি কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত না খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় আতাফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি মৌসুমি সর্দি-কাশি ও সংক্রমণ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ত্বক ও চুল ভালো রাখে
ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় আতাফল ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। এটি ত্বকের শুষ্কতা কমাতে এবং বয়সের ছাপ ধীর করতে সাহায্য করতে পারে। একইসঙ্গে এতে থাকা আয়রন ও খনিজ উপাদান চুলের গোড়া মজবুত রাখে।
হজমের সমস্যায় উপকারী
যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য আতাফল উপকারী হতে পারে। এতে থাকা খাদ্যআঁশ অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
হাঁপানি রোগীদের জন্য ভালো
আতাফলে থাকা ভিটামিন বি-৬ শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি খেতে পারেন।
হাড়ের স্বাস্থ্যে ভূমিকা
ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের উপস্থিতির কারণে আতাফল হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতেও এটি কিছুটা সহায়ক।
গর্ভাবস্থায় উপকার মিলতে পারে
গর্ভবতী নারীদের জন্য আতাফল শক্তির ভালো উৎস হতে পারে। এটি দুর্বলতা কমাতে এবং শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। তবে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রাকৃতিক শক্তির উৎস
আতাফলে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তাই ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই এটি খেয়ে থাকেন।
লোকজ ব্যবহারে আতাফল
গ্রামাঞ্চলে অনেক জায়গায় আতাফলের পাতা, খোসা ও বীজ লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে বীজে বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে।
খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত আতাফল খেলে কিছু ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি হতে পারে। এছাড়া বীজ কখনো খাওয়া উচিত নয়। শিশুদের ক্ষেত্রেও বীজ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই মৌসুমি ফলটি সঠিক পরিমাণে খেলে শরীরের নানা উপকার পাওয়া যেতে পারে। তাই গরমের মৌসুমে অন্যান্য ফলের পাশাপাশি আতাফলও রাখতে পারেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়।