গরমে শরীরের ভেতর থেকে তাপ বের হওয়ার অনুভূতি কেন হয়?

গরমে শরীরের ভেতর থেকে তাপ বের হওয়ার অনুভূতি কেন হয়?
ছবির ক্যাপশান, গরমে শরীরের ভেতর থেকে তাপ বের হওয়ার অনুভূতি কেন হয়?
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

প্রচণ্ড গরমে হুট করেই কি মনে হয় শরীর থেকে আগুনের হলকা বের হচ্ছে? বাইরে রোদের তাপ তো আছেই, কিন্তু শরীরের ভেতর থেকে তাপ বেরিয়ে আসার এই অদ্ভুত ও অস্বস্তিকর অনুভূতির আসল কারিগর আমাদের মস্তিষ্কের নিজস্ব থার্মোস্ট্যাট। কেন আমাদের শরীর এমন প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং নিউরোসায়েন্সের দৃষ্টিতে এই 'হিট সেন্সেশন'-এর রহস্য আসলে কী!

কারণ:

আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশটি শরীরের এসি (AC) হিসেবে কাজ করে। যখন বাইরের তাপমাত্রা বাড়ে, তখন হাইপোথ্যালামাস রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করার সংকেত দেয় যাতে রক্ত শরীরের চামড়ার কাছাকাছি এসে ভেতরের তাপ বাইরে বের করে দিতে পারে। একে বলা হয় Vasodilation। এই সময় আমাদের মনে হয় গা দিয়ে ভাপ বা তাপ বের হচ্ছে।


বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীর থেকে ঘাম সহজে শুকায় না। ঘাম যখন বাষ্পীভূত হতে পারে না, তখন শরীরের ভেতরের তাপ আটকা পড়ে যায়। ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বা Core Temperature বেড়ে যায় এবং আমরা অস্থিরতা অনুভব করি।


প্রচণ্ড গরমে আমাদের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) সচল রাখতে শরীরকে অনেক বেশি বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এই বাড়তি পরিশ্রম শরীরের ভেতরে আরও তাপ উৎপন্ন করে, যার ফলে মনে হয় হাত-পা বা মুখ দিয়ে গরম হাওয়া বের হচ্ছে।


প্রতিকার:

⇨ শরীরের বিশেষ পয়েন্টে পানি প্রয়োগ : দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমাতে চাইলে আপনার কবজি, ঘাড়, বগলের নিচে এবং হাঁটুতে ঠান্ডা পানি বা বরফ দিন। এই জায়গাগুলোর রক্তনালী চামড়ার খুব কাছাকাছি থাকে, ফলে এখানকার রক্ত ঠান্ডা হলে দ্রুত পুরো শরীরের তাপমাত্রা কমে আসে।


⇨ হাইড্রোথেরাপি: খুব গরম লাগলে গোসল করা সবথেকে ভালো উপায়। তবে খেয়াল রাখবেন যেন পানি খুব বেশি বরফ ঠান্ডা না হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করলে শরীর দ্রুত স্বাভাবিক হবে।


⇨ চিনি ছাড়া লেবুর শরবত বা ডাবের পানি: শরীরের তাপ বের হচ্ছে মনে হলে এক গ্লাস ডাবের পানি বা লেবু-লবণ মিশ্রিত পানি পান করুন। এটি আপনার ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখবে এবং শরীরকে ভেতর থেকে শীতল করবে।


সমাধান:

☞ পোশাক: এই সময়ে সিন্থেটিক বা সিল্কের কাপড় একদম এড়িয়ে চলুন। সাদা বা হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন, যা বাতাস চলাচলে সাহায্য করবে এবং ঘাম দ্রুত শুষে নেবে।


☞ খাদ্যাভ্যাস: গরমে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, ভাজাভুজি এবং চা-কফি পরিহার করুন। শসা, তরমুজ, লাউ এবং টক দইয়ের মতো জলীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।


☞ ঘর ঠান্ডা রাখা: রোদের সময় জানালার পর্দা টেনে রাখুন যাতে সরাসরি তাপ ঘরে না ঢোকে। ঘর মোছার পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে মুছলে ঘর দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা থাকে।


কখন সতর্ক হতে হবে?

যদি শরীরের তাপ বাড়ার সাথে সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখেন, তবে বুঝবেন আপনি Heat Exhaustion বা Heat Stroke-এর দিকে যাচ্ছেন:

⇨ মাথা খুব বেশি ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

⇨  বমি বমি ভাব।

⇨ প্রবল মাথাব্যথা।

⇨ হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া।

 


টিপস: রোদে বের হওয়ার সময় সাথে সবসময় একটি ছোট স্প্রে বোতলে পানি রাখুন। অস্বস্তি বোধ করলেই মুখে ও ঘাড়ে পানির ঝাপটা দিন। গরমের এই সময়টিতে শরীরকে আর্দ্র রাখা এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম না করাই হলো সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।


সম্পর্কিত নিউজ