{{ news.section.title }}
চা খাওয়ার যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতা হয়তো আপনার অজানা!
আজ ২১ মে, আন্তর্জাতিক চা দিবস। বিশ্বজুড়ে চা শুধু একটি পানীয় নয়; এটি সংস্কৃতি, অর্থনীতি, শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা, আতিথেয়তা এবং দৈনন্দিন জীবনের এক বড় অংশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএওর তথ্য অনুযায়ী, পানির পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পান করা পানীয় হলো চা।
এফএও আরও বলছে, চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিশ্বের বহু দেশে লাখো ক্ষুদ্র কৃষক ও শ্রমজীবী পরিবারের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। জাতিসংঘ ২১ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং এফএও এই দিবসের বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করে।
চা আমাদের অনেকের সকাল শুরু করে, দুপুরের ক্লান্তি কাটায়, বিকেলের আড্ডা জমায় এবং রাতের কাজের সঙ্গী হয়। কিন্তু চা শুধু অভ্যাস নয়; সঠিকভাবে পান করলে এর কিছু স্বাস্থ্যগুণও আছে। আবার ভুল সময়ে, অতিরিক্ত পরিমাণে বা বেশি চিনি-দুধ দিয়ে খেলে চা উপকারের বদলে ক্ষতির কারণও হতে পারে। আপনার দেওয়া লেখায় চায়ের জনপ্রিয়তা, ক্যাফেইন, মানসিক চাপ কমানো, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, হৃদ্স্বাস্থ্য, ক্যান্সার প্রতিরোধে সম্ভাব্য ভূমিকা এবং অতিরিক্ত চায়ের ক্ষতিকর দিক-এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।
চা আসলে কী
চা তৈরি হয় Camellia sinensis নামের উদ্ভিদের পাতা ও কুঁড়ি থেকে। রং চা, গ্রিন টি, উলং, হোয়াইট টি, পু-আর্হ-এসব আলাদা গাছ থেকে আসে না; একই গাছের পাতা ভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করার ফলে স্বাদ, রং, ঘ্রাণ, ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পার্থক্য তৈরি হয়। এনসিসিআইএইচ বলছে, চায়ে পলিফেনল, ক্যাফেইন, থিওফাইলিন, থিওব্রোমিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, খনিজ ও নানা সুগন্ধি যৌগ থাকে।
সবুজ চা বা গ্রিন টি সাধারণত কম অক্সিডাইজড; তাই এতে ক্যাটেচিন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকে। রং চা বা ব্ল্যাক টি সম্পূর্ণ অক্সিডাইজড; এতে থিয়াফ্লাভিন ও থিয়ারুবিজিনের মতো যৌগ তৈরি হয়, যা চায়ের গাঢ় রং ও শক্ত স্বাদ দেয়। উলং চা আংশিক অক্সিডাইজড; স্বাদে এটি গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টির মাঝামাঝি। হোয়াইট টি সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত, তাই স্বাদ নরম ও ক্যাফেইন তুলনামূলক কম হতে পারে।
রং চা: সবচেয়ে সহজ, সবচেয়ে কম ক্যালরির বিকল্প
স্বাস্থ্যের দিক থেকে চা খেতে চাইলে সবচেয়ে ভালো বিকল্পগুলোর একটি হলো রং চা-অর্থাৎ দুধ-চিনি ছাড়া চা। এতে ক্যালরি খুব কম, চায়ের আসল পলিফেনল পাওয়া যায়, আবার অতিরিক্ত চিনি বা দুধের কারণে ক্যালরি বাড়ে না। রং চায়ে ক্যাফেইন থাকে, তাই এটি সকালে ঘুমভাব কাটাতে সাহায্য করতে পারে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক জানিয়েছে, ব্ল্যাক টিতে কফির তুলনায় সাধারণত কম ক্যাফেইন থাকে এবং এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস। তবে অতিরিক্ত পান করলে ক্যাফেইনজনিত অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা বা বুক ধড়ফড় হতে পারে।
রং চা কার জন্য ভালো? যারা অফিসে বা পড়াশোনায় মনোযোগ চান, কিন্তু কফির মতো বেশি ক্যাফেইন নিতে চান না, তাদের জন্য রং চা ভালো। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদেরও দুধ-চিনি ছাড়া চা বেশি উপযোগী। তবে খালি পেটে খুব কড়া রং চা অনেকের অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে।
দুধ চা: স্বাদে জনপ্রিয়, কিন্তু সতর্কতা জরুরি
বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার বড় অংশে দুধ চা সবচেয়ে জনপ্রিয়। দুধ চা স্বাদে ভারী, ঘন এবং তৃপ্তিদায়ক। কিন্তু স্বাস্থ্য বিবেচনায় এটি নির্ভর করে-কতটা দুধ, কতটা চিনি এবং কতবার খাওয়া হচ্ছে।
দুধ চায়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চিনি। দিনে কয়েক কাপ দুধ চা খেলে অজান্তেই অনেক চিনি ও ক্যালরি শরীরে চলে যায়। এতে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়া এবং দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। Harvard Health–এর পুষ্টিবিদরা বলছেন, চায়ের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ চিনি যোগ করলে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দুধ চায়ের আরেকটি বিষয় হলো-দুধ চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতা কমাতে পারে কি না। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ব্ল্যাক টি–সংক্রান্ত আলোচনায় বলা হয়েছে, দুধ চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা কমাতে পারে-এমন গবেষণা আছে। তবে এ বিষয়ে গবেষণার ফল সবসময় একরকম নয়। বাস্তব পরামর্শ হলো: দুধ চা খেলে চিনি কম দিন, দিনে বারবার না খান এবং খুব কড়া করে না বানানোই ভালো।
গ্রিন টি: ওজন কমানোর ম্যাজিক নয়, তবে ভালো অভ্যাসের অংশ
গ্রিন টি নিয়ে অনেক অতিরঞ্জিত দাবি প্রচলিত আছে-এটি নাকি দ্রুত ওজন কমায়, সব রোগ সারায়, মেদ গলিয়ে দেয়। আসলে বিষয়টি এত সরল নয়। গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন ও পলিফেনল থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। Harvard Health বলছে, গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে, তবে এটি কোনো ম্যাজিক বুলেট নয়।
গ্রিন টি কার জন্য ভালো? যারা হালকা স্বাদের চা চান, চিনি ছাড়া পান করতে পারেন, দুপুর বা বিকেলে ভারী দুধ চায়ের বদলে কিছু হালকা চান-তাদের জন্য গ্রিন টি ভালো। তবে খালি পেটে গ্রিন টি অনেকের গ্যাস্ট্রিক বা বমি বমি ভাব বাড়াতে পারে। তাই খাবারের কিছুক্ষণ পর খাওয়া ভালো। এনসিসিআইএইচ জানিয়েছে, পানীয় হিসেবে গ্রিন টি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত নিরাপদ, তবে গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট বা ক্যাপসুল বেশি মাত্রায় গ্রহণে লিভারের সমস্যা দেখা গেছে-এমন রিপোর্ট আছে।
লেবু চা: ভিটামিন সি ও সতেজতার জন্য ভালো
রং চায়ের সঙ্গে লেবু দিলে স্বাদ বাড়ে এবং সতেজ লাগে। লেবুতে ভিটামিন সি থাকে, যা চায়ের কিছু উপাদানের শোষণ ও স্বাদে সহায়ক হতে পারে। তবে খুব গরম চায়ে লেবু দিলে ভিটামিন সি কিছুটা কমে যেতে পারে। তাই চা একটু ঠান্ডা হলে লেবু দেওয়া ভালো। লেবু চা গরমে বা দুপুরে হালকা পানীয় হিসেবে ভালো হতে পারে। তবে যাদের অ্যাসিডিটি, আলসার বা রিফ্লাক্স আছে, তারা অতিরিক্ত লেবু চা খেলে বুকজ্বালা বাড়তে পারে।
আদা চা: ঠান্ডা-কাশি ও গলাব্যথায় আরাম দিতে পারে
আদা চা দক্ষিণ এশিয়ায় খুব জনপ্রিয়। আদা গরম প্রকৃতির, স্বাদে ঝাঁঝালো এবং গলায় আরাম দেয়। ঠান্ডা লাগা, গলাব্যথা বা বমি বমি ভাবের সময় অনেকে আদা চা পান করেন। তবে আদা চা খুব কড়া করে খেলে অ্যাসিডিটি বা পেটের জ্বালা বাড়তে পারে। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান বা পিত্তথলির সমস্যা আছে, তাদের নিয়মিত বেশি আদা চা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মসলা চা বা চায়: স্বাদে ভালো, তবে চিনি ও দুধ নিয়ন্ত্রণ জরুরি
দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, আদা দিয়ে বানানো মসলা চা বা চায় স্বাদে সমৃদ্ধ। মসলাগুলোতে কিছু বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান থাকে, তবে স্বাস্থ্যগুণ পেতে হলে চা যেন চিনি-দুধের ভারে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত না হয়ে যায়। Verywell Health–এর সাম্প্রতিক আলোচনায় বলা হয়েছে, সাধারণভাবে বানানো চায়ে স্বাস্থ্যগত সম্ভাব্য উপকার থাকতে পারে, কিন্তু ফুল-ফ্যাট দুধ, ফ্লেভার্ড ক্রিমার ও অতিরিক্ত চিনি দিলে রক্তচাপ ও ক্যালরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
হোয়াইট টি ও উলং টি: নরম স্বাদের বিকল্প
হোয়াইট টি কম প্রক্রিয়াজাত এবং স্বাদে নরম। যারা কম ক্যাফেইন চান, তাদের জন্য এটি ভালো হতে পারে-যদিও ক্যাফেইনের মাত্রা ব্র্যান্ড, পাতা ও brewing সময়ের ওপর নির্ভর করে। উলং টি গ্রিন টি ও রং চায়ের মাঝামাঝি। এর স্বাদ কখনো ফুলেল, কখনো বাদামি, কখনো মসৃণ। যারা রং চা বেশি কড়া মনে করেন কিন্তু গ্রিন টি খুব হালকা মনে হয়, তারা উলং টি নিতে পারেন।
হারবাল টি: সবসময় ‘চা’ নয়, কিন্তু ক্যাফেইনমুক্ত বিকল্প
তুলসি, পুদিনা, ক্যামোমাইল, জবা, আদা, লেমনগ্রাস-এসব দিয়ে বানানো পানীয়কে অনেকেই হারবাল টি বলেন। এগুলো আসলে Camellia sinensis থেকে তৈরি নয়; তাই এগুলোতে সাধারণত ক্যাফেইন থাকে না। রাতে ঘুমের আগে ক্যাফেইন এড়াতে চাইলে ক্যামোমাইল বা পুদিনা ধরনের হারবাল পানীয় ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে গর্ভবতী নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগী বা যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের সব হারবাল টি নিরাপদ ধরে নেওয়া উচিত নয়। কিছু ভেষজ উপাদান ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে।
কফির চেয়ে চা কি ভালো
চা ও কফি-দুটিরই কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ আছে। তবে চায়ে সাধারণত কফির তুলনায় কম ক্যাফেইন থাকে। আপনার দেওয়া লেখাতেও বলা হয়েছে, একই পরিমাণ কফিতে যেখানে প্রায় ৮০–১১৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে, সেখানে চায়ে প্রায় ৪০ মিলিগ্রামের মতো থাকতে পারে। হার্ভার্ড হেলথও বলছে, কফি ও চা দুটিই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে; তবে চা তুলনামূলকভাবে কম ক্যাফেইন দেয় এবং গ্রিন ও ব্ল্যাক টিতে পলিফেনল থাকে।
যাদের ঘুমের সমস্যা আছে, উদ্বেগ বেশি, বুক ধড়ফড় করে, বা ক্যাফেইন সহ্য হয় না-তাদের জন্য কফির বদলে হালকা চা ভালো হতে পারে। তবে চা বেশি খেলেও একই সমস্যা হতে পারে।
কখন কোন চা ভালো
সকালে: সকালের নাশতার পর রং চা বা হালকা দুধ চা ভালো। খালি পেটে কড়া চা না খাওয়াই ভালো, বিশেষ করে অ্যাসিডিটি থাকলে।
দুপুরের আগে: কাজের মনোযোগ বাড়াতে রং চা, গ্রিন টি বা উলং টি নেওয়া যায়। তবে চায়ের সঙ্গে বিস্কুট, কেক, সিঙ্গারা, মিষ্টি-এসব বারবার খেলে ক্যালরি বাড়বে।
দুপুরের খাবারের পর: খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চা না খাওয়াই ভালো। চায়ের ট্যানিন খাবারের আয়রন শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে-বিশেষ করে উদ্ভিজ্জ খাবারের নন-হিম আয়রন। তাই খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর চা পান করা ভালো। আপনার দেওয়া লেখাতেও খাবারের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে বা খাবারের এক ঘণ্টা পরে চা পান করার পরামর্শ উল্লেখ আছে।
বিকেলে: হালকা ক্লান্তি কাটাতে রং চা, লেবু চা, আদা চা বা কম চিনি দেওয়া দুধ চা ভালো। বিকেলের চা যেন রাতের ঘুম নষ্ট না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
রাতে: ঘুমের সমস্যা থাকলে ক্যাফেইনযুক্ত চা এড়িয়ে চলুন। রাতে চা খেতে হলে ক্যাফেইনমুক্ত হারবাল পানীয় ভালো। এফডিএ বলছে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত সীমার মধ্যে ধরা হয়, তবে ব্যক্তিভেদে সংবেদনশীলতা ভিন্ন।
চা কত কাপ খাওয়া নিরাপদ
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে ২–৪ কাপ চা খেতে পারেন-যদি চা খুব কড়া না হয়, অতিরিক্ত চিনি না থাকে এবং রাতে ঘুমে সমস্যা না করে। Harvard Health–এর এক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গ্রিন, ব্ল্যাক বা উলং চায়ের স্বাস্থ্যগত সম্ভাব্য উপকার সাধারণত দিনে ২–৪ কাপের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
তবে যারা গর্ভবতী, বুকের দুধ খাওয়ান, হৃদ্রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, অনিদ্রায় ভোগেন, অ্যাসিডিটি আছে বা ওষুধ খান-তাদের পরিমাণ কমানো দরকার হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন সীমিত রাখা জরুরি; ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, গর্ভবতীদের দিনে ২০০ মিলিগ্রামের কম ক্যাফেইন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চায়ের উপকারিতা কোথায়
চায়ে থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় চা পানের সঙ্গে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং মৃত্যুঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণা অধিকাংশই পর্যবেক্ষণধর্মী; অর্থাৎ চা একাই রোগ প্রতিরোধ করে-এমন সরাসরি দাবি করা ঠিক নয়।
২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের বড় গবেষণায় দেখা যায়, দিনে দুই কাপ বা তার বেশি চা পানকারীদের সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি কিছুটা কম ছিল। আপনার দেওয়া লেখায়ও এই গবেষণার উল্লেখ আছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, চা উপকারী হতে পারে তখনই, যখন এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটা, কম চিনি, কম প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
চায়ের ক্ষতি কখন
চা অতিরিক্ত পান করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড়, অ্যাসিডিটি, মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। খুব কড়া চা, খালি পেটে চা, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা এবং রাতে চা-এসব অনেকের জন্য সমস্যা তৈরি করে। আপনার দেওয়া লেখায়ও অতিরিক্ত চা পানে ঘুমের ব্যাঘাত, ডিহাইড্রেশন, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অস্থিরতার ঝুঁকি উল্লেখ আছে।
চায়ের সঙ্গে ধূমপান, অতিরিক্ত বিস্কুট, মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খাবার যুক্ত হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ে। আবার “চা খেলে খাবার হজম হয়” ভেবে খাবারের পরপরই কড়া চা পান করলে আয়রন শোষণে সমস্যা হতে পারে।
সবচেয়ে ভালো চা কোনটি
এক কথায় সবার জন্য এক চা সেরা নয়। উদ্দেশ্য অনুযায়ী চা বেছে নেওয়া ভালো।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে রং চা বা গ্রিন টি-চিনি ছাড়া।
- ঘুমের সমস্যা থাকলে বিকেলের পর ক্যাফেইনযুক্ত চা কম।
- সকালের তন্দ্রা কাটাতে চাইলে রং চা বা হালকা দুধ চা।
- অ্যাসিডিটি থাকলে খালি পেটে কড়া চা নয়।
- শরীর হালকা রাখতে চাইলে লেবু চা বা গ্রিন টি।
- আড্ডা বা স্বাদের জন্য দুধ চা চলতে পারে, তবে কম চিনি দিয়ে।
- রাতে শান্তির জন্য হারবাল টি ভালো বিকল্প।
চা আন্তর্জাতিক চা দিবসে উদযাপনের মতোই একটি বৈশ্বিক পানীয়-স্বাদে, সংস্কৃতিতে ও অর্থনীতিতে এর বড় ভূমিকা আছে। তবে স্বাস্থ্যকরভাবে চা পান করতে হলে কয়েকটি নিয়ম মনে রাখা দরকার: দিনে ২–৪ কাপের মধ্যে রাখা, চিনি কমানো, দুধ চা সীমিত করা, খাবারের সঙ্গে সঙ্গে না খাওয়া, রাতে ক্যাফেইন এড়ানো এবং নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বোঝা।
রং চা, গ্রিন টি, লেবু চা, দুধ চা, আদা চা, মসলা চা-সব চায়েরই জায়গা আছে। কিন্তু সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর চা হলো সেটি, যা খাঁটি চা পাতা দিয়ে তৈরি, অতিরিক্ত চিনি ছাড়া, সঠিক সময়ে এবং পরিমিত পরিমাণে পান করা হয়।