{{ news.section.title }}
হামে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগ ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২ শিশু। বাকি ৫ শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৫৪ জন। বুধবার (৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৮ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৯ জন। আর সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ২৬০ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৮৫ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৭ হাজার ২২৩ জন। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু রোগীদের চাপ বাড়ছে বলে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
হাম মূলত একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে র্যাশ বা দানা ওঠা-এসব লক্ষণ দেখা দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টি, কম বয়স, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের জন্য হাম মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।
সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহযোগিতায় উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয় এবং পরে তা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই কোনো শিশুর জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, শরীরে দানা ওঠা বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয় দোকান থেকে ওষুধ খাওয়ানো বা ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে জটিলতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই সময়ে সারাদেশে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৮৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরদিন নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৬৫৪ জনে দাঁড়ানোয় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
হাম পরিস্থিতির অবনতির পেছনে টিকাদানের ঘাটতি, সময়মতো টিকা না পাওয়া, কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকার মতো কারণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ইউনিসেফ আগেও সতর্ক করেছে, টিকাদান কার্যক্রমে সামান্য ব্যাঘাতও দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত তথ্য বলছে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সন্দেহভাজন আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যু-সব সূচকেই শিশুদের ওপর রোগটির প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, হাসপাতালে চিকিৎসা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান জোরদার এবং অভিভাবকদের সচেতনতা-এই চারটি বিষয় এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।