বিজয়ের সরকার ছয় মাসও টিকবে না : ডিএমকে নেতা

বিজয়ের সরকার ছয় মাসও টিকবে না : ডিএমকে নেতা

ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ও তার নেতৃত্বাধীন টিভিকে (TVK) সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন ডিএমকের জ্যেষ্ঠ নেতা অনিথা রাধাকৃষ্ণন। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার আর চার থেকে ছয় মাসের বেশি টিকবে না এবং এরপর আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন ডিএমকে নেতা এম. কে. স্টালিন।

রোববার দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে আয়োজিত এক দলীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার এমন বক্তব্যকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক নির্বাচনে নাটকীয় পরিবর্তনের পর তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখনো বেশ উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে রাধাকৃষ্ণন বলেন, “এই সরকার আর চার থেকে ছয় মাস টিকবে। এরপর আবার আমাদের নেতা স্টালিনই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।” তিনি দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হচ্ছে এবং দ্রুতই রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাবে।

 

শুধু সরকার পতনের ইঙ্গিত দিয়েই থেমে থাকেননি ডিএমকের এই নেতা। টিভিকে নেতা আধব অর্জুনাকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। রাধাকৃষ্ণন বলেন, সাহস থাকলে আধব অর্জুনকে এমএলএ পদ ছেড়ে তিরুচেন্দুর আসনে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে হবে। তার ভাষ্য, তিরুচেন্দুর ডিএমকের শক্ত ঘাঁটি এবং সেখানে যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

 

তিরুচেন্দুর আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই অনিথা রাধাকৃষ্ণনের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রথম ২০০১ সালে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতেও একাধিকবার ডিএমকের হয়ে জয় ধরে রাখেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তার শক্ত অবস্থানের কারণে এই আসনকে ডিএমকের অন্যতম নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

 

বক্তব্যে তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন। রাধাকৃষ্ণনের দাবি, স্টালিন কোলাথুর এলাকাকে “সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত” করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে সেই কোলাথুরেই বড় ধাক্কা খেতে হয় স্টালিনকে। সেখানে জয় পান টিভিকে-তে যোগ দেওয়া সাবেক ডিএমকে নেতা ভি. এস. বাবু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

 

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দেখায় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়ের দল টিভিকে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় দলটি ১০৮টি আসনে জয় পেয়ে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরে কংগ্রেস, বাম দল এবং বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছির সমর্থনে সরকার গঠন করে টিভিকে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের প্রভাবাধীন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের উত্থান এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তরুণ ভোটার, চলচ্চিত্রজগতের জনপ্রিয়তা এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণাকে কাজে লাগিয়ে খুব অল্প সময়েই শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে টিভিকে।

 

তবে সরকার গঠনের পর থেকেই নানা ইস্যুতে চাপের মুখে রয়েছে দলটি। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি, জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বিজয় সরকারকে। ডিএমকে নেতাদের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

এদিকে অনিথা রাধাকৃষ্ণনের এই মন্তব্যের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি টিভিকে বা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কার্যালয়। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এটি কি শুধুই রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল, নাকি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সত্যিই নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

সূত্র : এনডিটিভি


সম্পর্কিত নিউজ