{{ news.section.title }}
মেসির কারণে হেরেছেন তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাস!
টালিগঞ্জে এবার আর জিততে পারলেন না রাজ্যের বিদায়ি মন্ত্রী তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা অরূপ বিশ্বাস। সোমবারের (৪ মে) ফলাফলে দেখা গেছে, টালিগঞ্জ আসনে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর কাছে ৬,০১৩ ভোটে হেরে গেছেন তিনি। গতবার বড় ব্যবধানে জয় পেলেও এবার নিজের দীর্ঘদিনের আসন ধরে রাখতে পারলেন না অরূপ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অরূপ বিশ্বাস পেয়েছেন ৮২,৩৯৪ ভোট। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী ৮৮,৪০৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে সিপিএম প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস পেয়েছেন ৩০,৩৩৫ ভোট এবং কংগ্রেস প্রার্থী মানস সিনহা রায় পেয়েছেন ১,০৬৬ ভোট। বিশ্লেষকদের মতে, এবার সিপিএম ৩০ হাজারের বেশি ভোট টেনে নেওয়ায় অরূপ বিশ্বাসের ভোটব্যাংকে বড় ধাক্কা লেগেছে।
টালিগঞ্জ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই অরূপ বিশ্বাসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০৬ সাল থেকে এই কেন্দ্রের সঙ্গে তার রাজনৈতিক অবস্থান প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছিল। তবে দীর্ঘ ২০ বছর পর এই আসনে পালাবদল ঘটল। বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর জয়কে তাই শুধু একটি আসনের ফল নয়, বরং তৃণমূলের পুরোনো দুর্গে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
অরূপ বিশ্বাসের এই হারের পেছনে গত বছরের ‘মেসি-কাণ্ড’ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন অনেকে। গত ডিসেম্বরে লিওনেল মেসি যখন কলকাতায় এসেছিলেন, তখন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। টিকিট কেটে আসা বহু দর্শক মেসিকে ভালোভাবে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সেই ঘটনায় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
অভিযোগ ছিল, অরূপ বিশ্বাস সারাক্ষণ মেসির পাশে থাকলেও টিকিট কেটে আসা হাজার হাজার দর্শক মেসিকে দেখার সুযোগ পাননি। ফুটবলপ্রেমীদের সেই ক্ষোভ এবার ভোটের বাক্সে ধরা পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও সরাসরি এই ঘটনাকেই পরাজয়ের একমাত্র কারণ বলা যাচ্ছে না, তবে জনমনে তৈরি হওয়া অসন্তোষ যে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, তা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
অরূপ বিশ্বাসের হার নিয়ে নেটপাড়ায়ও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও কটাক্ষ। মেসির সেই ঘটনা টেনে কেউ বলছেন, ‘মেসিকে দেখতে দেননি, তাই মানুষ এবার তাকে বিধানসভায় ঢুকতে দিল না।’ অনেকে আবার মজা করে লিখছেন, ‘মেসির পাস থেকেই গোল দিয়ে জিতল বিজেপি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টালিগঞ্জের ফলাফল তৃণমূলের জন্য সতর্কবার্তা। একদিকে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি, অন্যদিকে স্থানীয় ক্ষোভ, বিরোধী ভোটের হিসাব এবং সিপিএমের ভোট টানার প্রভাব-সব মিলিয়ে অরূপ বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েট নেতাকেও পরাজয়ের মুখ দেখতে হলো। অন্যদিকে, পাপিয়া অধিকারীর জয় বিজেপির জন্য কলকাতার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া