{{ news.section.title }}
গরু ‘জাতীয় প্রাণী’ ঘোষণার দাবি নাখোদা মসজিদের ইমামের
আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ভারতে গরু জবাই সংক্রান্ত পুরোনো আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ১৯৫০ সালের ‘স্লটার কন্ট্রোল’ আইন অনুযায়ী গরু-মহিষ কোরবানি ও জবাইয়ে নতুন করে কড়াকড়ির সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসমি।
তিনি সরাসরি কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি গরু নিয়ে এত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তাহলে সরকার গরুকে ‘জাতীয় প্রাণী’ হিসেবে ঘোষণা করে দিক। একইসঙ্গে গরু কেনাবেচা, জবাই ও মাংস খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি।
মাওলানা কাসমি বলেন, মুসলমানদের আলাদাভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। অথচ ভারতের অর্থনীতি ও পশু বাণিজ্যের বড় একটি অংশ গরু কেন্দ্রিক। তিনি দাবি করেন, মুসলমানরা যদি গরু কোরবানি ও গরুর মাংস খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন গরু পালন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হিন্দু ব্যবসায়ীরাই।
তার ভাষায়, “আমাদের হিন্দু ভাইদের মধ্যে ঘোষ, যাদবসহ অনেক সম্প্রদায় গরু পালন করেন। দুধ দেওয়া বন্ধ হলে তারা সেই গরু বাজারে বিক্রি করেন। কোরবানির সময় মুসলমানরা বেশি দামে সেই গরু কিনে নেয়। এতে তাদের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক লাভ হয়। এখন যদি সরকার সব বন্ধ করে দেয়, তাহলে মুসলমানদের চেয়ে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
নাখোদা মসজিদের ইমাম আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্প্রতি একটি সার্কুলার জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গরু কোরবানি করা যাবে না। এছাড়া প্রকাশ্যে কোরবানি নিষিদ্ধ এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি স্লটার হাউজে পশু জবাই করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, এই আইন বহু পুরোনো হলেও দীর্ঘদিন তা কঠোরভাবে প্রয়োগ হয়নি। কিন্তু এখন নতুন করে মুসলমানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এটি সক্রিয় করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
মাওলানা কাসমি মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা চাইলে গরুর বদলে ছাগল, খাসি, মুরগি বা মাছ খেতে পারেন। কিন্তু বারবার মুসলমানদের অপরাধী বানিয়ে জেলে পাঠানো ঠিক নয়।” তিনি আরও বলেন, “ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় বিফ রপ্তানিকারক দেশ। বিদেশে প্যাকেটজাত করে গরুর মাংস রপ্তানি করা হচ্ছে, অথচ দেশের মুসলমানদের ক্ষেত্রেই নানা বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটি দ্বৈত নীতি।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে গরু জবাই ও গরুর মাংসের বিষয়টি বহু বছর ধরেই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন রাজ্যে এ বিষয়ে আলাদা আইন রয়েছে। কোথাও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, কোথাও আংশিক অনুমতি আবার কোথাও বয়সভিত্তিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ কোরবানির সময় গরু কোরবানি করে থাকে। ফলে নতুন কড়াকড়ি বাস্তবায়ন হলে ঈদের বাজার, পশু ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ ইমামের বক্তব্যকে বাস্তবধর্মী বলছেন, আবার অনেকে এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। তবে কোরবানির আগে গরু জবাই আইন নিয়ে নতুন এই বিতর্ক পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।