{{ news.section.title }}
রুপির দামে বড় ধস, ইতিহাসে সর্বোচ্চ পতন
বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চলমান অনিশ্চয়তার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারতীয় মুদ্রা রুপির ওপর। বুধবার বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে লেনদেন শুরু হতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর আরও ১২ পয়সা কমে দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৮০ রুপিতে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম নিম্নতম স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপির এই পতন হঠাৎ নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চাপে মুদ্রাটি দুর্বল হয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ সুদের হার নীতি এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগের প্রবণতা রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং পশ্চিম এশিয়ায় সম্ভাব্য সংঘাত পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের জন্য বড় চাপের কারণ। আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ে এবং মুদ্রার মান দুর্বল হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা আবারও ডলারের দিকে ঝুঁকছে। ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় রুপির ওপর অবমূল্যায়নের চাপ আরও তীব্র হচ্ছে।
ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি, জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানিনির্ভর অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক সুদের হার পরিবর্তনের প্রভাবও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (RBI) বাজারে ডলার সরবরাহ বাড়িয়ে ও নীতি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বৈশ্বিক চাপের কারণে সম্পূর্ণ স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
রুপির এই অবমূল্যায়নের ফলে আমদানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস, জ্বালানি এবং কাঁচামাল আমদানিতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে রুপির ওপর চাপ বজায় থাকবে এবং বিনিময় হার আরও ওঠানামা করতে পারে। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে রুপি আরও দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহেও সাময়িক ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।