পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পরই গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সুজিত বসু

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পরই গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সুজিত বসু
ছবির ক্যাপশান, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পরই গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সুজিত বসু

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতার। নতুন রাজ্য সরকার গঠনের পরপরই ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, ইডি তাকে গ্রেফতার করেছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেরা ও তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে সোমবার, ১১ মে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ইডি সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর সুজিত বসুকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই জিজ্ঞাসাবাদ প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চলে। পরে সেখানেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।

 

মঙ্গলবার সকালে তাকে বিধাননগর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। এরপর আদালতে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানা গেছে। গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 

সুজিত বসু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে দমকলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের সাবেক বিধায়কও ছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে এই আসনে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় তাকে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দমদম পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালে পৌরসভায় কর্মী নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছিল।

 

তদন্তের স্বার্থে একাধিকবার তলব করা হলেও সুজিত বসু দীর্ঘদিন হাজিরা এড়িয়ে গেছেন। গত ১ মে তিনি শেষ পর্যন্ত সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন। তবে তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানে অসহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ার কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে।

 

নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক বছরে একাধিক প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়েছে ইডি এবং সিবিআই। এর আগে রাজ্যের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের আরও কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সুজিত বসুর গ্রেফতার নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

 

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে বিরোধী নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে। অতীতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতৃত্ব একাধিকবার এই অভিযোগ তুলেছেন।

 

অন্যদিকে বিজেপি নেতারা বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, তদন্তে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা গণতন্ত্র ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য প্রয়োজন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নতুন সরকার গঠনের পরপরই তৃণমূলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার গ্রেফতার সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

 

এদিকে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হবে এবং তদন্ত কোন দিকে এগোবে, তা এখন আদালত ও তদন্ত সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। তবে তার গ্রেফতার পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
 


সম্পর্কিত নিউজ