{{ news.section.title }}
কেনো ভারতীয়দের একবছর স্বর্ণ কিনতে নিষেধ সরকারের?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ভারতীয় নাগরিকদের আগামী এক বছর স্বর্ণ না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সাশ্রয়ী জীবনযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামে পড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম কয়েক দফা বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে এই সমুদ্রপথে কোনো ধরনের বাধা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে ভারতের জ্বালানি খাত, শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ খরচে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ভারতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আবারও “বাড়ি থেকে কাজ” চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে জ্বালানি ব্যবহার ও যাতায়াত ব্যয় কমানো যায়। পাশাপাশি স্বর্ণ কেনার প্রবণতা সাময়িকভাবে কমিয়ে সঞ্চয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
খাদ্য ও কৃষি খাতেও সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণের কথা বলেছেন মোদি। তিনি ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমাতে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিদেশি রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় বিকল্প ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করেছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি খাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অনেক বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশও এই সংকটের প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি নির্ভর শিল্প, বিমান পরিবহন এবং কৃষি খাতে ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘ হলে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি, আমদানি ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং পরিবহন খরচ আরও তীব্র হতে পারে।