পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে? দৌড়ে এগিয়ে এই ৫ নেতা

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে? দৌড়ে এগিয়ে এই ৫ নেতা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়ের পর রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। বিজেপির কাছে এটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। দলের পূর্বসূরি জনসঙ্ঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির জন্মস্থান কলকাতা। সেই রাজ্যেই প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার সুযোগকে বিজেপি একটি বড় রাজনৈতিক মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারের সময় জানিয়ে গেছেন, বিজেপি জয়ী হলে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন তার উপস্থিতিতেই। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত-কে হচ্ছেন সেই মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচনের আগে বিজেপি কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেনি, এমনকি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধেও কোনো নির্দিষ্ট মুখ তুলে ধরা হয়নি।

 

এর আগে রাজস্থান, দিল্লি, ওড়িশা কিংবা মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতেও বিজেপি এমন কৌশল নিয়েছে-নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা না করে জয়ের পর নতুন বা তুলনামূলক অচেনা কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘিরে জোরালো আলোচনা চলছে। তাদের মধ্যে থেকেই কেউ দায়িত্ব পেতে পারেন বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এবার দেখা যাক সম্ভাব্য সেই নামগুলো-

 

শুভেন্দু অধিকারী

গত পাঁচ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে থাকা শুভেন্দু অধিকারী এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর-দুই আসনেই জয় পেয়েছেন। বিশেষ করে ভবানীপুরে তিনি পরাজিত করেছেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

২০২১ সালের পরাজয়ের পরও তিনি দলের হয়ে মাঠে সক্রিয় থেকেছেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াই চালিয়ে গেছেন। এসব কারণে তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছে।

তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি তুলনামূলকভাবে নতুন-মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এর আগে তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতা ছিলেন। ফলে পুরোনো বিজেপি নেতাদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা কম। এছাড়া আরএসএসের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক না থাকাও তার বিপক্ষে যেতে পারে।

 

স্বপন দাশগুপ্ত

বিজেপির বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত একজন ইতিহাসবিদ এবং অভিজ্ঞ সাংবাদিক। তিনি ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে রাজ্যসভার সদস্য হন এবং পরে আবারও মনোনীত হন। ২০১৫ সালে তিনি পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন। এবারের নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রাসবিহারী আসন থেকে জিতে তিনি আলোচনায় এসেছেন। শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে তাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে-এমন মতও রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার অভাব তার জন্য বাধা হতে পারে।

 

শমীক ভট্টাচার্য

বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত এবং দলের এক উদারপন্থী মুখ হিসেবে পরিচিত। তিনি কোনো গোষ্ঠী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন, যা তাকে একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম বিধায়ক হন। যদিও তিনি ভালো বক্তা হিসেবে পরিচিত, তবে তার জনভিত্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে যদি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনো একক নাম নিয়ে একমত হতে না পারে, তাহলে আপোষ প্রার্থী হিসেবে তার নাম সামনে আসতে পারে।

 

অগ্নিমিত্রা পাল

ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে রাজনীতিতে আসা অগ্নিমিত্রা পাল গত কয়েক বছরে বিজেপির হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আসানসোল থেকে নির্বাচিত এই নেত্রী এবারও জয় ধরে রেখেছেন।দলের ভেতরে এমন একটি মত রয়েছে যে, মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘ শাসনের পর নতুন সরকারও একজন নারীর নেতৃত্বে হওয়া উচিত। সেই যুক্তিতে অগ্নিমিত্রা পালকে বিবেচনায় আনা হতে পারে। তবে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম, যা তাকে পিছিয়ে দিতে পারে।

 

স্মৃতি ইরানি

বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একজন বাঙালি হবেন। সেই সংজ্ঞায় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও নিজেকে বাঙালি হিসেবে তুলে ধরেন এবং বাংলা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন। নির্বাচনে তিনি সক্রিয়ভাবে প্রচার করেছেন এবং নিজের বাঙালি পরিচয় তুলে ধরতে নানা বক্তব্যও দিয়েছেন। ২০১৯ সালে আমেঠিতে রাহুল গান্ধীকে হারিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে বড় চমক তৈরি করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। ফলে তাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী করে রাজনৈতিকভাবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা দেওয়া হতে পারে কি না-তা নিয়েও আলোচনা চলছে।


সম্পর্কিত নিউজ