{{ news.section.title }}
নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেড প্রকাশ
বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘদিনের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম এখন ৯ম জাতীয় পে স্কেল। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রায় এক যুগ ধরে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে স্কেল নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা দিন দিন বাড়ছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল চালু হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংশোধন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল ঘোষণার রীতি থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং সরকারের আর্থিক চাপের কারণে তা দীর্ঘ সময় পিছিয়ে যায়।
তবে ২০২৬ সালে এসে ৯ম পে স্কেল নিয়ে সরকারি মহলে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সচিবালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং একটি বিশেষ কমিটি প্রস্তাবিত কাঠামো যাচাই-বাছাই করছে।
জানা গেছে, ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি নতুন পে স্কেলের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করছে। তারা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতি, সরকারি ব্যয় এবং কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুপারিশ তৈরির কাজ করছে।
বেতন বাড়লেও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা রয়েছে সরকারের। কারণ প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত কয়েক দশ হাজার কোটি টাকার ব্যয় হতে পারে। ফলে প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ বৃদ্ধি করে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে দক্ষ জনবল ধরে রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেলের তালিকা
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আলোচনায় থাকা প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য কাঠামো নিচে তুলে ধরা হলো-
| গ্রেড | প্রস্তাবিত বেতন স্কেল |
| ০১ | ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত) |
| ০২ | ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা |
| ০৩ | ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা |
| ০৪ | ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা |
| ০৫ | ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা |
| ০৬ | ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা |
| ০৭ | ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা |
| ০৮ | ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ টাকা |
| ০৯ | ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ টাকা |
| ১০ | ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা |
| ১১ | ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা |
| ১২ | ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ টাকা |
| ১৩ | ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ টাকা |
| ১৪ | ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা |
| ১৫ | ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ টাকা |
| ১৬ | ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা |
| ১৭ | ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ টাকা |
| ১৮ | ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা |
| ১৯ | ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা |
| ২০ | ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা |
বাড়তে পারে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও
শুধু মূল বেতন নয়, নতুন পে স্কেলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং পেনশন সুবিধাতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এছাড়া বিচার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিশেষায়িত কিছু ক্যাডারের জন্য আলাদা কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠনও দ্রুত নতুন পে স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বেতন কাঠামো দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তালিকাটি কেবল প্রস্তাবিত কাঠামো। সরকারিভাবে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পরই চূড়ান্ত পে স্কেল কার্যকর হবে।