১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী

১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিল সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (১৮ মে) নিজ কার্যালয়ে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে। কীভাবে সবচেয়ে ভালো উপায়ে এটি বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।”

 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে আগামী জাতীয় বাজেটেই নতুন পে স্কেলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

 

তবে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী একবারে পুরো সুবিধা কার্যকর করা হচ্ছে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে। এরপর পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাকি সুবিধা যুক্ত করা হবে।

 

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “কমিটির সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু আমাদের বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের অবস্থা ভালো নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তারপরও আমরা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।”

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও নতুন পে স্কেলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী ২১ মে এ বিষয়ে গঠিত কমিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠক থেকেই বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সরকারি সূত্র বলছে, প্রথম ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ বাড়তি সুবিধা পাবেন।

 

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ বেতন সমন্বয় করা হবে। এরপর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, টিফিন ও অন্যান্য ভাতা এবং অতিরিক্ত সুবিধাগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা হবে।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপের জন্য আগামী বাজেটে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ রাখা হতে পারে। তবে পুরো কমিশন বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি পেনশন খাতে অতিরিক্ত আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। সব মিলিয়ে নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

 

জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন পে স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময়ে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়।

 

নবম পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধি, পেনশন সুবিধা বাড়ানো এবং বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের প্রস্তাবও রয়েছে।

 

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়নি, তবুও নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ধাপে ধাপে হলেও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে।


সম্পর্কিত নিউজ