নতুন গভর্নরের স্বাক্ষরযুক্ত নোট বাজারে ছাড়ল বাংলাদেশ ব্যাংক

নতুন গভর্নরের স্বাক্ষরযুক্ত নোট বাজারে ছাড়ল বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে নতুন গভর্নরের স্বাক্ষরযুক্ত কাগুজে নোট ছাড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষর করা ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকার নোট প্রাথমিকভাবে বাজারে ছাড়া হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় থেকে এসব নতুন নোট ইস্যু করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য শাখা ও কার্যালয় থেকেও নতুন স্বাক্ষরযুক্ত নোট সরবরাহ করা হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন গভর্নরের সই করা নোট বাজারে এলো।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আপাতত ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের নোট ছাড়া হয়েছে। পরে ধাপে ধাপে ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোটও বাজারে ছাড়া হবে। তবে নতুন নোটের রং, আকার, নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের মতোই সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নোটগুলো ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নকশায় ছাপানো হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর নতুন সিরিজের নোটে যে নকশাগত পরিবর্তন আনা হয়েছিল, সেটিই বজায় রাখা হয়েছে। এবার মূলত গভর্নরের স্বাক্ষর পরিবর্তন করে নতুনভাবে নোট মুদ্রণ করা হয়েছে।

 

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গভর্নর আহসান হাবিব মনসুরের স্বাক্ষরে নতুন ডিজাইনের নোট বাজারে ছাড়া হয়েছিল। ওই সিরিজে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং আগের নোট সিরিজে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বাদ দেওয়া হয়। সেই পরিবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, নতুন সিরিজের ১, ২ ও ৫ টাকার নোট এখনো ছাপানো হয়নি। তবে বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই বৈধ এবং বাজারে চলবে। পুরোনো ও নতুন-উভয় ধরনের নোটই সমানভাবে ব্যবহার করা যাবে বলে স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাজারে নতুন নোটের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ‘ফ্রেশ নোট’ সংগ্রহে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকায় নতুন স্বাক্ষরযুক্ত নোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচলিত মুদ্রা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, গভর্নর পরিবর্তনের পর নতুন স্বাক্ষরযুক্ত নোট বাজারে ছাড়া একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা প্রতিফলিত হয়। পাশাপাশি বাজারে নতুন নোট সরবরাহ বাড়লে ব্যাংকিং লেনদেন ও নগদ অর্থের প্রবাহও আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন তারা।


সম্পর্কিত নিউজ