{{ news.section.title }}
৯ মাসে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২০ শতাংশ
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়ে ৩৪ দশমিক ২২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১১ মে পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ২২৬ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-৬ বা বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার সমান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়া, রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কয়েক মাস ধরেই দেশের রিজার্ভে ধীরে ধীরে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ মে পর্যন্ত দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫ দশমিক ৪০১ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
শুধু চলতি মে মাসের প্রথম ৯ দিনেই দেশে এসেছে ১ দশমিক ০২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার সমান। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৮৬৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১০ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। ফলে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১ শতাংশে।
এ ছাড়া মাত্র তিন দিনে, অর্থাৎ ৭ থেকে ৯ মে পর্যন্ত দেশে ২৭৭ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। এত অল্প সময়ে এত বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসাকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তাদের মতে, বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজীকরণ, মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল লেনদেন সুবিধা বাড়ানো এবং প্রবাসীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি হুন্ডি নিরুৎসাহিত করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের আমদানি সক্ষমতা, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে শক্তিশালী রিজার্ভ অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা দেয়।
তবে তারা এটাও বলছেন, শুধু রিজার্ভ বাড়লেই হবে না, একইসঙ্গে রপ্তানি আয়, বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানও বাড়াতে হবে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদনশীল খাতের শক্তিশালী হওয়াও জরুরি।