ভারত থেকে গরু আমদানির অনুমতিপত্রের বিষয়ে যা জানাল প্রাণিসম্পদ অধিদফতর

ভারত থেকে গরু আমদানির অনুমতিপত্রের বিষয়ে যা জানাল প্রাণিসম্পদ অধিদফতর
ছবির ক্যাপশান, জাগরণ ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতর’-এর নামে ভারত থেকে গবাদিপশু (গরু) আমদানির একটি কথিত অনুমতিপত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ নথিকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

শনিবার (২ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রচারিত অনুমতিপত্রটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো সরকারি অনুমোদন বা দাফতরিক প্রক্রিয়ার মিল নেই।


এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আলোচিত ওই নথি তাদের পক্ষ থেকে ইস্যু করা হয়নি। এতে ব্যবহৃত তথ্য, রেফারেন্স নম্বর এবং স্বাক্ষর যাচাইযোগ্য নয় এবং এটি কোনো বৈধ আমদানি অনুমোদন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
সরকারি সূত্র বলছে, ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রতি বছর গবাদিপশুর বাজারকে ঘিরে নানা গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। বিশেষ করে ভারত থেকে গরু আমদানি নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ থাকায় এ ধরনের ভুয়া নথি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গরু আমদানির ওপর কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।


মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ভুয়া নথি ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যবসায়িক বা আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা করে, তাহলে তা প্রতারণার শামিল হবে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


সাধারণ জনগণ, পশু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে-যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো নথি বা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিতে এবং সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র শেয়ার বা প্রচার না করতে। মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সাইবার অপরাধ দমন সংস্থার সহায়তায় এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।


সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কেবল সরকারি ওয়েবসাইট ও অনুমোদিত সূত্র অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্য যাচাই না করে শেয়ার করার প্রবণতা বাড়ায় এ ধরনের গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।


সব মিলিয়ে, ভুয়া অনুমতিপত্রের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল-গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করা কতটা জরুরি।


সম্পর্কিত নিউজ