{{ news.section.title }}
ক্রুড অয়েল সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
দীর্ঘ প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
মূলত ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের সংকটের কারণেই গত ১৪ এপ্রিল রিফাইনারিটির প্রধান প্রক্রিয়াজাত ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পুরো উৎপাদন কার্যক্রম থমকে দাঁড়ায়। জ্বালানি খাতে এটি ছিল একটি বড় ধাক্কা, কারণ এটিই দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার।
কেন বন্ধ হয়েছিল রিফাইনারি
জ্বালানি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশে নতুন করে কোনো অপরিশোধিত তেলের চালান পৌঁছায়নি। ফলে মজুদ ফুরিয়ে গেলে বাধ্য হয়েই উৎপাদন বন্ধ করতে হয়। ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ে রিফাইনারিটি, যা জ্বালানি খাতে একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কীভাবে আবার চালু হচ্ছে
পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিকল্প উদ্যোগ গ্রহণ করে। সরাসরি প্রচলিত রুটের পরিবর্তে লোহিত সাগর ঘুরে সৌদি আরব থেকে তেল আমদানির ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও জাহাজ পরিবহন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে প্রায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এরপর ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে এবং সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত কর্মকর্তারা
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি তেলবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। এছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, মে মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
কী ধরনের তেল পরিশোধন হয়
রিফাইনারিটিতে সাধারণত সৌদি আরবের ‘এরাবিয়ান লাইট’ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘মারবান’ ধরনের অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়। দেশের চাহিদা পূরণে প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়।
অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিফাইনারি বন্ধ থাকলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয় এবং আমদানিনির্ভর পরিশোধিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে, যা ব্যয়বহুল। ফলে উৎপাদন চালু হওয়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক।