১০০ টাকার বেশি বিল নিলে, নিয়মিত ময়লা না সরালে লাইসেন্স বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসক

১০০ টাকার বেশি বিল নিলে, নিয়মিত ময়লা না সরালে লাইসেন্স বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসক
ছবির ক্যাপশান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম | ছবি: সংগৃহীত

বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ ফি আদায় এবং নিয়মিত ময়লা অপসারণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (পিসিএসপি)-এর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে সতর্ক করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

গত সোমবার ( ১১ মে ) রাজধানীর নগর ভবন অডিটোরিয়ামে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নগরীর নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অতিরিক্ত বিল আদায় ও নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে-অনেক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করছে এবং নিয়মিতভাবে প্রতিদিনের ময়লা অপসারণেও ব্যর্থ হচ্ছে।

 

আবদুস সালাম বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নিতে হবে। এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে।’ এ সময় ডিএসসিসির প্রশাসক স্পষ্টভাবে জানান, নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত বিল নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

 

সভায় ‘দিনের বর্জ্য দিনেই অপসারণ’ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো এলাকায় যেন ময়লা জমে না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানায় ডিএসসিসি। এ ছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

 

আবদুস সালাম বলেন, পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করতে হবে। পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দ্রুততম সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা যায়। সভায় নাগরিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

এ ছাড়া রাস্তা, ড্রেন কিংবা খালে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না রেখে কোনো বাসা থেকে রাস্তায় বা খালে ময়লা ফেললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আবদুস সালাম বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু একটি সেবা নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে ডিএসসিসি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পর্কিত নিউজ