একুশে পদকজয়ী অভিনেতা আতাউর রহমান আর নেই

একুশে পদকজয়ী অভিনেতা আতাউর রহমান আর নেই
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের অন্যতম প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব, বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার, মঞ্চনির্দেশক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক আতাউর রহমান আর নেই।

সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। আগামী জুন মাসে তার ৮৫তম জন্মদিন উদযাপনের কথা থাকলেও তার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বাংলা নাট্যাঙ্গনের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

 

অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার বিদায়ে শোক প্রকাশ করেছেন দেশের নাট্যজন, অভিনেতা, নির্মাতা ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

 

মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর রাজধানীর মগবাজারে ইস্পাহানি সেঞ্চুরি আর্কেডে নিজ বাসভবনের সামনে খোলা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকেলে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। সবশেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

 

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য, সংস্কৃতি ও অভিনয়ের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। ছাত্রজীবনে নাট্যচর্চার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু করেন তিনি। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। মঞ্চনাটককে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে তুলতে তার ভূমিকা ছিল অসামান্য। নাটকের ভাষা, উপস্থাপনা ও নির্দেশনায় তিনি নতুনত্ব নিয়ে আসেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছে।

 

তিনি শুধু অভিনেতা নন, ছিলেন একজন শক্তিমান নাট্যকার ও দক্ষ সংগঠকও। টেলিভিশন নাটক, মঞ্চনাটক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার অবদান বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অভিনয়ে তার স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ও সংলাপ উপস্থাপনার দক্ষতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে দীর্ঘদিন। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকের মতো রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত হন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের নাট্যজগত হারালো এক অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্বকে, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।


সম্পর্কিত নিউজ