গুলশান কড়াইলবাসীর পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন

গুলশান কড়াইলবাসীর পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন

বিশ্বজুড়ে পালিত বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘটের অংশ হিসেবে রাজধানীর কড়াইল এলাকায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশ সুরক্ষার দাবিতে সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের তরুণ জলবায়ু কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৮ মে) গুলশান-বনানী লেকপাড় সংলগ্ন রিওয়েট প্রজেক্ট এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন, সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ, আমরাই আগামী, সিডার ইনিশিয়েটিভ, ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ ও হেল্প দ্যা নেশন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া জলবায়ু কর্মীরা বলেন, কড়াইল এলাকায় হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ পরিবেশগত ঝুঁকি ও ন্যূনতম নাগরিক সুবিধার অভাব নিয়ে বসবাস করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূল ও অন্যান্য দুর্যোগপ্রবণ এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে অনেক মানুষ রাজধানীর এই অনানুষ্ঠানিক বসতিতে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু এখানকার পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

 

তারা অভিযোগ করেন, গুলশান-বনানী লেক দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত হলেও লেক রক্ষায় সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বরং লেক পরিষ্কারের নামে আশপাশের সবুজায়ন ও নগর কৃষির ক্ষতি করা হচ্ছে। সম্প্রতি রিওয়েট প্রজেক্ট এলাকায় সবজি ক্ষেত এবং ৫৫ কদমতলা উদ্যোগের গাছপালার একটি অংশ মাটি ফেলে নষ্ট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

 

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির বিচারে বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। একই সঙ্গে দেশে বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ দূষণের কারণে দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এবং অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী ও পরিবেশ কর্মী মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “রিনিউয়েবল এনার্জিই ভবিষ্যৎ। কয়লা ও গ্যাসনির্ভর জ্বালানির কারণে বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সংকট বাড়ছে। এখনই সরকারকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে, না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”

 

সেইভ ফিউচার বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক নয়ন সরকার বলেন, “উন্নয়নের নামে দেশে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা হয়েছে। এতে পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য সংকট বেড়েছে। সরকারকে সবার আগে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কড়াইল এলাকার মানুষের জন্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবের মুখোমুখি। ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা বাড়ছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো এখনো ন্যায্য জলবায়ু ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না। আমরা জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।”

সিডার ইনিশিয়েটিভের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শরাফত করিম বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর বিকল্প নেই। এজন্য সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি তরুণ সমাজ ও বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

কর্মসূচি থেকে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুনর্বাসন, উপকূলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ, পানি ও বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা, পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল রক্ষা এবং নদী ও জলাশয় দূষণমুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ।

 

জলবায়ু কর্মীরা বলেন, শুধু প্রতীকী কর্মসূচি নয়, এখন সময় বাস্তব ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার। অন্যথায় জলবায়ু সংকট বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর আরও বড় হুমকি হয়ে উঠবে।


সম্পর্কিত নিউজ