চাঁদাবাজির ঘটনায় ইবি ছাত্রদল নেতার বিচার দাবি, শিবিরের নাম জড়ানোয় ক্ষোভ

চাঁদাবাজির ঘটনায় ইবি ছাত্রদল নেতার বিচার দাবি, শিবিরের নাম জড়ানোয় ক্ষোভ
ছবির ক্যাপশান, ছবি: জাগরণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল নেতা আবু সাঈদ রনির বিরুদ্ধে মামলায় নাম বাদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চাঁদাবাজির নিন্দা জানিয়ে তদন্তের দাবি এবং মামলা বাণিজ্যে ছাত্রশিবিরের নাম জড়িয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

বুধবার (২০ মে) শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি ইউসুব আলী ও সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি এ দাবি জানান।

 

যৌথ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডে ইবি ছাত্রদল নেতা আবু সাঈদ রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের চিত্র ফুটে উঠেছে, যা ছাত্ররাজনীতির জন্য কলঙ্কজনক। তারা অভিযোগ করেন, “২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষুণ্ন করে ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে পুনরায় চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি কায়েম করতে চায়।”

 

নেতৃদ্বয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফাঁস হওয়া অডিওতে ছাত্রদল নেতা রনি চাঁদাবাজির সময় পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরের নাম জড়িয়ে বলেন, “সমন্বয়ক কও, শিবির কও, আমাদের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কও-সব জায়গায় টুকটাক যাবে।” এ বিষয়ে ছাত্রশিবির নেতারা দাবি করেন, তাদের সংগঠন একটি নিয়মতান্ত্রিক ও আদর্শিক ছাত্রসংগঠন এবং উক্ত বক্তব্যের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

তারা অভিযোগ করেন, নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং চাঁদাবাজির বৈধতা দিতেই ছাত্রশিবিরের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা “চরম ধৃষ্টতা ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”

 

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “ফাঁস হওয়া অডিওতে দাবি করা হয়েছে, শিবির ও সমন্বয়কদের মাধ্যমে মামলা দেওয়া হলেও ছাত্রদল তা সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী সরকারের সময়কার দোসরদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। এসব মামলায় কোনো অপরাধীকে রক্ষা বা অর্থ লেনদেনের সঙ্গের ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তারা।

 

একইসঙ্গে অডিওতে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের সমঝোতা ও ছাত্রশিবিরবিরোধী অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলেও মন্তব্য করেন তারা। তারা বলেন, “ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ ও সুযোগসন্ধানীরা এখনও ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে মরিয়া।”

 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজ, জালিয়াত ও মামলা খাদকদের স্থান হতে পারে না।” একইসঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় সংগঠনটি।

 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রনির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।  এ সংক্রান্ত একটি অডিও কলের রেকর্ডে তাকে এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে মামলা ‘হোল্ড’ রাখার কথা বলে লক্ষাধিক টাকা দাবি করতে শোনা যায়। হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া কথোপকথনের সময় ভুক্তভোগী অন্য একটি মোবাইল ফোন দিয়ে পুরো বিষয়টি ভিডিও আকারে ধারণ করেন।


সম্পর্কিত নিউজ