{{ news.section.title }}
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কবে, জানাল এনটিআরসিএ
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে বহুল আলোচিত ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঈদুল আজহার আগেই এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত তা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
মঙ্গলবার (১৯ মে) এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রাজা আব্দুল হাই এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। এ কারণে সদস্য নূরে আলম সিদ্দিকীকে সাময়িক বা রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি শুধুমাত্র দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ দেখভাল করছেন। গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত বা বড় ধরনের নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রমে তার সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই।'
ফলে নিয়মিত চেয়ারম্যান যোগদান না করা পর্যন্ত ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা লাখো নিবন্ধিত চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে নতুন করে হতাশা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সংস্থার কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলছে। রুটিন দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা মূলত বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কাজ করছেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, চূড়ান্ত অনুমোদন বা বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার নেই।
জানা গেছে, ৯ম শিক্ষক নিয়োগ চক্রের জন্য ইতোমধ্যে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের চাহিদা পেয়েছে এনটিআরসিএ। এটি দেশের ইতিহাসে বেসরকারি শিক্ষা খাতে অন্যতম বড় নিয়োগ হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে সহকারী শিক্ষক পদে। এ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে ৪৪ হাজার ৬৯১ জনকে। এছাড়া সহকারী শিক্ষক (ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা) পদে ৯২৮ জন, সহকারী শিক্ষক বা শরীরচর্চা প্রশিক্ষক পদে ৪ হাজার ১৪ জন, সহকারী মৌলভি পদে ১১ হাজার ৬৯ জন এবং কম্পিউটার ব্যবহারিক নির্দেশক পদে ১২৯ জনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ব্যবহারিক নির্দেশক পদে ১ হাজার ৬১৬ জন, ইবতেদায়ি কারি পদে ২ হাজার ৫৬৩ জন, ইবতেদায়ি মৌলভি পদে ৬ হাজার ১৬৬ জন, ইবতেদায়ি শিক্ষক পদে ৪৪৪ জন, প্রশিক্ষক পদে ৫১ জন, প্রভাষক পদে ৫ হাজার ৮৫২ জন, শারীরিক শিক্ষা প্রশিক্ষক পদে ১২৫ জন এবং বাণিজ্য প্রশিক্ষক পদে ২৫১ জন নিয়োগ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নতুন গণবিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেকেই বয়সসীমা ও চাকরির অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছিল।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান খণ্ডকালীন বা অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা না গেলে শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ফলে আগের মতো অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অনেকটাই কমেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় এবারও প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।