৩ ম্যাচ হাতে রেখে ২১তম লিগ শিরোপা জিতল ইন্টার

৩ ম্যাচ হাতে রেখে ২১তম লিগ শিরোপা জিতল ইন্টার
ছবির ক্যাপশান, ২১তম বার লিগ শিরোপা জিতল ইন্টার মিলান | ছবি: সংগৃহীত

শিরোপা জয়ের জন্য অপেক্ষা ছিল শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। সেই অপেক্ষার ইতি টানল ইন্টার মিলান। রোববার রাতে সান সিরোতে পার্মাকে ২-০ গোলে হারিয়ে তিন ম্যাচ হাতে রেখেই সিরি ‘আ’র চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নেরাজ্জুরিরা। এটি ইন্টারের ইতিহাসে ২১তম লিগ শিরোপা এবং গত তিন মৌসুমের মধ্যে দ্বিতীয় স্কুডেত্তো।

ইতালিয়ান ফুটবলে সর্বোচ্চ ৩৬টি সিরি ‘আ’ শিরোপা নিয়ে সবার ওপরে জুভেন্টাস। ইন্টার এখন ২১ শিরোপা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে নিজেদের জায়গা আরও মজবুত করল। এসি মিলানের শিরোপা সংখ্যা ১৯। সান সিরোতে শেষ বাঁশি বাজতেই নীল-কালো পতাকা, আতশবাজি আর সমর্থকদের উল্লাসে মিলান শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। পিয়াজা দেল দুমোতেও হাজারো ইন্টার সমর্থক রাতভর শিরোপা উদযাপনে মেতে ওঠেন।

 

ম্যাচে ইন্টারের দরকার ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। তবে ড্রয়ের হিসাব না কষে শুরু থেকেই আধিপত্য ধরে রাখে ক্রিস্টিয়ান চিভুর দল। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয় যোগ করা সময় পর্যন্ত। পিওতর জিলিনস্কির পাস থেকে মার্কাস থুরাম দারুণ ফিনিশিংয়ে পার্মার গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে পরাস্ত করেন। বিরতিতে যাওয়ার আগে এই গোলই সান সিরোর চাপা উত্তেজনাকে উল্লাসে রূপ দেয়।

 

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইন্টারের হাতে। পার্মা মাঝে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ৮০ মিনিটে সব অনিশ্চয়তা শেষ করে দেন হেনরিখ মেখিতারিয়ান। বদলি হিসেবে মাঠে নামা অধিনায়ক লাওতারো মার্তিনেজের পাস থেকে অভিজ্ঞ আর্মেনিয়ান মিডফিল্ডার গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি ইন্টারকে।

 

এই জয়ে ইন্টার উঠে যায় ৮২ পয়েন্টে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাপোলির সঙ্গে ব্যবধান দাঁড়ায় ১২ পয়েন্ট। লিগে বাকি তিন ম্যাচে ইন্টার হারলেও এবং নাপোলি সব ম্যাচ জিতলেও পয়েন্ট ব্যবধান আর ঘোচানো সম্ভব নয়। ফলে ২০২৫-২৬ মৌসুমের সিরি ‘আ’ শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় সান সিরোর ক্লাবটির।

 

শিরোপাটি ইন্টারের জন্য শুধু আরেকটি ট্রফি নয়; এটি গত মৌসুমের যন্ত্রণা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও। আগের মৌসুমে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে সিরি ‘আ’ হারিয়েছিল তারা। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালেও প্যারিস সেন্ট জার্মেইর কাছে বড় হারে হতাশ হতে হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে নতুন কোচ ক্রিস্টিয়ান চিভুর অধীনে দলটি আবার ইতালির সিংহাসনে ফিরল।

 

চিভুর জন্য এই সাফল্য আরও বিশেষ। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইন্টারের হয়ে খেলেছেন তিনি। পরে কোচ হিসেবে ফিরে এসে প্রথম মৌসুমেই ক্লাবকে লিগ শিরোপা এনে দিলেন। মজার বিষয়, যেই পার্মাকে হারিয়ে তিনি ইন্টারকে চ্যাম্পিয়ন করলেন, গত মৌসুমে সেই পার্মার কোচ হিসেবেই কাজ করেছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে চিভু বলেন, খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে দল পরিচালনায় সাহায্য করেছে।

 

অধিনায়ক লাওতারো মার্তিনেজও শিরোপা জয়ের পর দলের মানসিক শক্তির কথা তুলে ধরেন। তার মতে, গত মৌসুমের কঠিন সমাপ্তির পর আবার নতুন করে শুরু করা সহজ ছিল না। কিন্তু ড্রেসিংরুমের ঐক্য, ধারাবাহিকতা এবং কঠোর পরিশ্রমই ইন্টারকে আবার চ্যাম্পিয়ন করেছে।

 

গোলদাতা মার্কাস থুরামের জন্য ম্যাচটির আবেগ ছিল আলাদা। তিনি জন্মেছেন পার্মায়; তার বাবা লিলিয়ান থুরাম একসময় পার্মার হয়ে খেলেছেন। সেই পার্মার বিপক্ষে গোল করে ইন্টারের শিরোপা নিশ্চিত করার মুহূর্তটি তাই ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ হয়ে রইল থুরামের জন্য। এপি জানিয়েছে, থুরামের গোলটি ছিল কোণাকুণি দারুণ শট, যা পার্মা গোলরক্ষক সুজুকির নাগালের বাইরে দিয়ে জালে যায়।

 

লিগ জয়ের পরও ইন্টারের মৌসুম শেষ হয়নি। সামনে তাদের আরেকটি বড় লক্ষ্য-কোপা ইতালিয়া। আগামী ১৩ মে রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে লাৎসিওর মুখোমুখি হবে ইন্টার। সেখানে জিততে পারলে ক্লাবটি ঘরোয়া ডাবল জয়ের সুযোগ পাবে। রয়টার্স জানিয়েছে, শিরোপা উৎসবের মধ্যেই ইন্টার সমর্থকদের চোখ এখন সেই ফাইনালের দিকেও।

 

অন্যদিকে সিরি ‘আ’র শীর্ষ চারের লড়াই আরও জমে উঠেছে। জুভেন্টাস নিজেদের মাঠে অবনমিত ভেরোনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তৃতীয় স্থানে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করেছে। এসি মিলান সাসুওলোর কাছে ২-০ গোলে হেরেও তৃতীয় স্থানে আছে। জুভেন্টাস আছে চতুর্থ স্থানে, তবে পঞ্চম স্থানে থাকা কোমোর চেয়ে মাত্র তিন পয়েন্ট এগিয়ে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়ার লড়াই শেষ তিন ম্যাচে আরও নাটকীয় হতে পারে।

 

সব মিলিয়ে, ইন্টারের এবারের শিরোপা শুধু মাঠের সাফল্য নয়; এটি প্রত্যাবর্তনের গল্প। গত মৌসুমের হতাশা, কোচ বদল, চোট, চাপ-সব সামলে চিভুর দল প্রমাণ করল, স্থিরতা ও দলীয় ঐক্য থাকলে বড় ধাক্কার পরও ফিরতে সময় লাগে না। সান সিরোর সেই রাত তাই ইন্টার সমর্থকদের কাছে শুধু শিরোপার রাত নয়, পুনর্জন্মের রাত হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ