{{ news.section.title }}
এক দশকের অধ্যায়ের শেষ? ম্যানসিটি ছাড়ার পথে গার্দিওলা
ইংলিশ ফুটবলে এক দশকের আধিপত্যের অবসান ঘটাতে পারেন পেপ গার্দিওলা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটিই হতে পারে ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে কাতালান এই কোচের শেষ ম্যাচ। যদিও ক্লাব বা গার্দিওলার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি, তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি-ইতিহাদে তার বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
বিবিসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটির ভেতরে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন মৌসুম শেষে গার্দিওলা দায়িত্ব ছাড়বেন। ক্লাবের আনুষ্ঠানিক অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। সিটি এখনো বলছে, গার্দিওলার চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত এবং তারা আশা করছে তিনি পরের মৌসুমেও থাকবেন। তবে স্টাফদের একাংশ এবং দলের ভেতরে সম্ভাব্য বিদায়ের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
রয়টার্সও একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে, গার্দিওলা ১০ বছর দায়িত্ব পালনের পর ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়তে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচের পর তার বিদায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে। বর্তমান চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকলেও গার্দিওলার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা গত কয়েক মাস ধরেই চলছে।
২০১৬ সালে বায়ার্ন মিউনিখ থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন গার্দিওলা। এরপর ইংলিশ ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্য অনেকটাই বদলে দেন তিনি। তার অধীনে সিটি জিতেছে একাধিক প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ, ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপসহ অসংখ্য শিরোপা। রয়টার্স ও দ্য টাইমসের হিসাবে, সিটির হয়ে তার ট্রফির সংখ্যা ২০টির ঘরে পৌঁছেছে।
শুধু শিরোপা নয়, গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটির খেলার ধরনও আমূল বদলে দিয়েছেন। পজিশনাল প্লে, বল দখল, উচ্চ প্রেসিং, ইনভার্টেড ফুলব্যাক, মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ-এসব ধারণাকে ইংলিশ ফুটবলে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। তার অধীনে সিটি শুধু জিতেছে তা নয়, আধুনিক ক্লাব ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী মডেল হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। সংবাদ সম্মেলনে একাধিকবার তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বারবার বলেছেন, তার চুক্তির আরও এক বছর বাকি। এফএ কাপ ফাইনালের আগে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেন, তিনি এখনো সিটিতেই আছেন এবং চুক্তি রয়েছে। তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গার্দিওলার ২০২৭ পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও মৌসুম শেষে তার বিদায়ের সম্ভাবনা ঘিরে প্রত্যাশা বাড়ছিল।
গার্দিওলার সম্ভাব্য বিদায়কে ঘিরে সিটির ভেতরে স্মরণীয় বিদায় আয়োজনের আলোচনা চলছে বলেও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি। দ্য টাইমস জানিয়েছে, ক্লাব তার অবদানকে সম্মান জানাতে বিশেষ পরিকল্পনা করছে। এমনকি ইতিহাদ স্টেডিয়ামের সম্প্রসারিত অংশ বা স্ট্যান্ডের সঙ্গে গার্দিওলার নাম যুক্ত করার কথাও আলোচনায় আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মৌসুমেও সিটি শিরোপার লড়াইয়ে ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্দিওলার দল এফএ কাপসহ শিরোপা জিতেছে এবং প্রিমিয়ার লিগেও শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল। ফলে বিদায় নিলে সেটি আরেকটি সফল মৌসুমের পরই হবে। দ্য সান ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষের ম্যাচের পরই তার ভবিষ্যৎ পরিষ্কার হতে পারে।
গার্দিওলার উত্তরসূরি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন এনজো মারেস্কা। ইতালিয়ান এই কোচ আগে ম্যানচেস্টার সিটিতে গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন এবং সিটির ফুটবল কাঠামো সম্পর্কে তার ভালো ধারণা আছে। দ্য টাইমস জানিয়েছে, মারেস্কা সিটির পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
তবে এই জায়গায়ও সতর্কতা দরকার। উত্তরসূরি হিসেবে মারেস্কার নাম আলোচনায় থাকলেও এখনো ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা নেই। একই সঙ্গে ভিনসেন্ট কোম্পানি, লুইস এনরিকে, অলিভার গ্লাসনারসহ আরও কিছু নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তাই “মারেস্কাই হচ্ছেন” না লিখে “মারেস্কা এগিয়ে” বা “আলোচনায় সবচেয়ে বেশি”-এভাবে লেখা নিরাপদ।
গার্দিওলার সম্ভাব্য বিদায় শুধু ম্যানচেস্টার সিটির জন্য নয়, পুরো ইংলিশ ফুটবলের জন্যই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তার অধীনে সিটি এমন এক ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে, যা প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন বদলে দিয়েছে। লিভারপুল, আর্সেনাল, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডসহ বড় ক্লাবগুলোর ওপরও তার সিটির মানদণ্ডের চাপ তৈরি হয়েছিল।