{{ news.section.title }}
নতুন রূপে ফিরছে পাসপোর্ট, বাদ যাচ্ছে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়!
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশের পাসপোর্টে একাধিক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে গত এপ্রিল ও চলতি মাসের শুরুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব বৈঠকে পাসপোর্টের নকশা, নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দবন্ধ পুনর্বহাল নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো-বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হতে যাচ্ছে বহুল পরিচিত ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালুর পর এই শব্দবন্ধ বাদ দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকে পাসপোর্টে উল্লেখ থাকত না যে এটি ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য বৈধ। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মহল থেকে পুরোনো অবস্থান ফিরিয়ে আনার দাবি ওঠে।
নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ধাপে ধাপে সব ধরনের পাসপোর্টে আবারও ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোনো পাসপোর্টধারীদের জন্য এতে কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। বর্তমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের সময় নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু শব্দবন্ধ নয়-ই-পাসপোর্টের ভেতরে থাকা বিভিন্ন জলছাপ ও ছবিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যুক্ত হওয়া কয়েকটি স্থাপনা ও প্রকল্পের ছবি বাদ দেওয়া হচ্ছে নতুন সংস্করণ থেকে। এর মধ্যে রয়েছে-গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, স্বাধীনতার স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, কান্তজিউ মন্দিরসহ আরও কয়েকটি স্থাপনার ছবি। এ ছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের যে ছবিতে নৌকা ছিল, সেটিও পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নতুন নকশায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা বেশ কিছু নতুন উপাদান। এর মধ্যে রয়েছে-ঐতিহাসিক বঙ্গভবন, আহসান মঞ্জিল, শালবন বিহার, পানাম নগরী, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, টাঙ্গুয়ার হাওর, বান্দরবানের নীলগিরি, রাজশাহীর আমবাগান, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জামদানি শাড়ি, জাতীয় ফল কাঁঠাল এবং জাতীয় মাছ ইলিশের ছবি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হিসেবে আলোচনায় এসেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবেই এটি যুক্ত করার চিন্তা করা হয়েছে।
তবে আগের কিছু পরিচিত প্রতীক ও স্থাপনা আগের মতোই থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ফুল শাপলা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, দোয়েল, শহীদ মিনার, সুপ্রিম কোর্ট, শিখা অনির্বাণ, লালবাগ কেল্লা, হাতিরঝিল, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, কার্জন হল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, সুন্দরবন, চা-বাগান, পাট এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’।
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নকশার পাসপোর্টে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও আরও উন্নত করা হবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কিছু পরিবর্তনও আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন, পাসপোর্টের ভেতরে থাকা কিছু জলছাপ বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং নতুন কিছু ছবি সংযোজন করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।