{{ news.section.title }}
নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে ইসির গেজেট প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের একটি বহুল আলোচিত আসনে অবশেষে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করেছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার রাতে গেজেটটি প্রকাশ করা হয় বলে ইসির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন (নম্বর-৫০২২/২০২৬)-এর ২৭ এপ্রিলের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২ মে নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেই যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪-এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
এই গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে চলমান একটি আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার আপাত সমাপ্তি ঘটল। এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, মনিরা শারমিনের বিষয়ে আদালত থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা আসে কি না, তা সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা পর্যবেক্ষণ করবে। কমিশন বলেছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কোনো বাধা না এলে নুসরাত তাবাসসুমের নামেই গেজেট প্রকাশ করা হবে। শেষ পর্যন্ত সেই পথেই এগিয়েছে ইসি।
প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টির মধ্যে ৪৯টি আসনে নির্বাচিত সদস্যরা এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন। বর্তমান সংসদের আসনবিন্যাস অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় জোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পায়। এর মধ্যে ১২ জন প্রার্থী আগেই শপথ নিলেও একটি আসন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সেই জায়গাতেই সামনে আসেন এনসিপির নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম।
ঘটনার সূত্রপাত হয় জোটের আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনকে ঘিরে। সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে সে সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেননি। এরপর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের ওই নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশের আগে এনসিপির পক্ষ থেকেও আপত্তি তোলা হয়। রোববার এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ জানান, উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যেন নুসরাত তাবাসসুমকে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে গেজেট না করা হয়। তিনি দাবি করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার ২৩ ও ২৭ এপ্রিলের আপিল আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন। এই আপত্তির কারণেই ইসি শেষ পর্যন্ত কিছুটা অপেক্ষা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিল।
তবে কমিশনের অবস্থান ছিল পরিষ্কার-আদালতের নতুন কোনো স্থগিতাদেশ বা বাধা না এলে আইনগতভাবে তারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানও জানিয়েছেন, কমিশন নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তা প্রকাশ করা হয়।
এই গেজেট প্রকাশের ফলে নুসরাত তাবাসসুম এখন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক পথ পেয়ে গেলেন। তবে বিষয়টি এখানেই পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন রয়ে গেছে। কারণ মনিরা শারমিনের পক্ষ থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও এসেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এখনো আদালতে বিষয়টি অনুসরণ করছেন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের কথাও ভাবছেন।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে দলীয় ও জোটভিত্তিক সমীকরণ, মনোনয়ন যাচাই, আইনি বৈধতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা-সবকিছুই এই ঘটনায় একসঙ্গে সামনে এসেছে। বিশেষ করে মনোনয়নপত্র বাতিল, বিকল্প প্রার্থীর আবির্ভাব, আদালতের নির্দেশ এবং শেষ পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ-এই ধারাবাহিকতা সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।