দেশের ৩ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ৩ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। সম্ভাব্য দুর্যোগের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

 

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। এর সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট মেঘমালার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বজ্রসহ বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে।

 

এদিকে শনিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজধানীর আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। একইসঙ্গে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

 

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ, যা ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ট্রেস পরিমাণ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে।

 

অন্যদিকে শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় প্রকাশিত সারাদেশের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায়ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। একইসঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় অনেক এলাকায় গরমের অনুভূতি বেশি হতে পারে।

 

এদিকে মাদারীপুর, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে বৃষ্টির প্রবণতা, অন্যদিকে কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ-এ দুই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

 

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের ধান ও অন্যান্য ফসল দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ