{{ news.section.title }}
ঈদে পূজা চেরির নতুন সিনেমা
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় তরুণ জুটি আদর আজাদ ও পূজা চেরি অভিনীত ‘নাকফুলের কাব্য’ অবশেষে মুক্তির আলো দেখতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতা কাটিয়ে আলোক হাসান পরিচালিত এই সিনেমাটি আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড।
জানা যায়, ২০২৪ সালেই সিনেমাটি সেন্সর ছাড়পত্র পেলেও নানা কারণে এতদিন মুক্তি পায়নি। অথচ সিনেমাটির শুটিং (চিত্রধারণ) শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে। ফলে দর্শকদের মধ্যে এই সিনেমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে আদর-পূজা জুটির আগের দুটি সিনেমা ‘লিপস্টিক’ ও ‘টগর’ দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ায় তাদের প্রথম একসঙ্গে কাজ করা এই সিনেমাটি নিয়ে প্রত্যাশাও বেশ বেশি।
‘নাকফুলের কাব্য’ মূলত একটি গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত প্রেমের গল্প। চিত্রনাট্যকার ফেরারী ফরহাদের গল্পে এখানে তুলে ধরা হয়েছে সমাজের প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রেমিক-প্রেমিকার সংগ্রাম, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের আবেগঘন কাহিনি। নির্মাতারা বলছেন, এটি শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়-বরং গ্রামীণ সমাজের বাস্তবতা, সামাজিক বাধা এবং মানবিক সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে এতে।
সিনেমাটির নাম নিয়েও শুরুতে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রথমে এর নাম রাখা হয়েছিল ‘নাকফুল’। তবে একই নামে আরেকটি সিনেমা আগে থেকেই নিবন্ধিত থাকায় সেন্সর বোর্ড আপত্তি তোলে। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘নাকফুলের কাব্য’, যা গল্পের আবেগ ও গভীরতার সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিনয়ের দিক থেকেও সিনেমাটি বেশ সমৃদ্ধ। আদর আজাদ ও পূজা চেরির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলী রাজ, লুৎফর রহমান জর্জ, গাজী রাকায়েত, কাজী কানিজ ও শিখা মৌসহ আরও অনেকে। অভিজ্ঞ ও তরুণ অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে সিনেমাটির গল্পকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
নির্মাতা আলোক হাসান জানিয়েছেন, সিনেমাটিতে গ্রামীণ বাংলার আবহ, লোকজ সংস্কৃতি ও বাস্তবধর্মী গল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দর্শক যাতে সহজেই গল্পের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারেন, সেই দিকটিও মাথায় রাখা হয়েছে। সিনেমাটির চিত্রগ্রহণ, সংগীত ও সংলাপেও রাখা হয়েছে দেশীয় আবহের ছোঁয়া।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ‘নাকফুলের কাব্য’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে, যা ঈদ উৎসবে দর্শকদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সিনেমাটি দর্শকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।