{{ news.section.title }}
প্রতীক্ষার অবসান, ‘দৃশ্যম ৩’ নিয়ে ফের আলোচনায় মোহনলাল
মাত্র ক্লাস ফোর পাস করা এক সাধারণ কেবল ব্যবসায়ী কীভাবে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, মানসিক দৃঢ়তা ও হিসাবি পরিকল্পনায় প্রশাসনের উচ্চশিক্ষিত কর্মকর্তাদেরও বিভ্রান্ত করে নিজের পরিবারকে রক্ষা করেন-সেই গল্প দিয়েই ভারতীয় থ্রিলার সিনেমায় আলাদা জায়গা করে নিয়েছে ‘দৃশ্যম’। এবার সেই আলোচিত ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি ‘দৃশ্যম ৩’ নিয়ে দর্শকদের অপেক্ষা শেষের পথে।
জিতু জোসেফ পরিচালিত মালায়লাম থ্রিলার ‘দৃশ্যম ৩’ আগামী ২১ মে বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে। দিনটি আবার দক্ষিণী মহাতারকা মোহনলালের জন্মদিন। ফলে মুক্তির তারিখ ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। ছবিতে আবারও জর্জ কুট্টি চরিত্রে ফিরছেন মোহনলাল। তার সঙ্গে আগের কিস্তির পরিচিত মুখ মীনা, আনসিবা হাসান ও এস্থার অনিলও নিজেদের চরিত্রে ফিরছেন বলে জানা গেছে।
‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির কেন্দ্রে রয়েছে জর্জ কুট্টি ও তার পরিবার। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে শান্ত জীবনযাপন করতেন কেবল ব্যবসায়ী জর্জ কুট্টি। কিন্তু একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর পরিবারকে আইনের কঠিন জাল থেকে বাঁচাতে তিনি যে পরিকল্পনার আশ্রয় নেন, তা দর্শকদের কাছে হয়ে ওঠে রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা। প্রথম দুই কিস্তিতে তার বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। তবে এবার সেই আত্মবিশ্বাসী জর্জ কুট্টির ভেতরেই দেখা যাবে ভয়, অপরাধবোধ ও সন্দেহের গভীর ছাপ।
সম্প্রতি প্রকাশিত টিজার সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। আগের কিস্তিগুলোর মতো শুধু ইঁদুর-বিড়াল খেলার উত্তেজনা নয়, এবার গল্পটি আরও বেশি আবেগঘন ও মনস্তাত্ত্বিক পথে এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিজারে জর্জ কুট্টিকে অনেক বেশি অন্তর্মুখী, উদ্বিগ্ন এবং অতীতের সিদ্ধান্তের ভারে নুয়ে পড়া মানুষ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফিল্মফেয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিজারে জর্জ কুট্টির অপরাধবোধ ও সন্দেহবাতিকের ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
টিজারের এক পর্যায়ে জর্জ কুট্টি স্বীকার করেন, পরিবারকে রক্ষা করতে তিনি যা প্রয়োজন মনে করেছিলেন, তাই করেছিলেন; কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে তখন ভাবেননি। এই স্বীকারোক্তিই নতুন কিস্তির আবেগ ও সাসপেন্সের কেন্দ্র হতে পারে বলে মনে করছেন দর্শকরা। আগের দুই পর্বে যেখানে জর্জ কুট্টির পরিকল্পনা ছিল গল্পের মূল আকর্ষণ, তৃতীয় কিস্তিতে সেই পরিকল্পনার মানসিক মূল্যই বড় হয়ে উঠতে পারে।
‘দৃশ্যম ৩’ শুধু ভারতে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় পরিসরে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছবির টিম জানিয়েছে, ভারতের মুক্তির আগেই যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হবে। অনমনোরমার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ২০ মে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পিএসটি থেকে ছবির প্রথম প্রদর্শনী শুরু হবে। এরপর ২১ মে ভারতে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
মুক্তির আগেই যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছে এবং ছবিটি প্রি-সেলে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, মালায়লাম সিনেমা হলেও ‘দৃশ্যম ৩’–এর দর্শক আগ্রহ আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির বিশেষত্ব হলো এর গল্প বলার ধরন। এখানে বড় অ্যাকশন, অতিরঞ্জিত নায়কোচিত দৃশ্য বা প্রচলিত থ্রিলারের চমক নয়; বরং এক সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি সামলানোর মেধা, পারিবারিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক দ্বন্দ্ব গল্পকে এগিয়ে নেয়। জর্জ কুট্টি চরিত্রটি দর্শকদের কাছে একই সঙ্গে সহানুভূতিশীল, রহস্যময় ও বিতর্কিত। কারণ তিনি যা করেন, তা আইনের চোখে প্রশ্নবিদ্ধ হলেও পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে দর্শক তাকে বুঝতে চেষ্টা করে।
এই ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয়তা এতটাই ব্যাপক যে, মালায়লাম মূল ছবির পর এটি হিন্দি, তামিল, তেলেগু, কন্নড়, সিংহলি ও চীনা ভাষাসহ একাধিক সংস্করণে রিমেক হয়েছে। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া মালায়লাম ‘দৃশ্যম’ ভারতীয় থ্রিলার সিনেমায় নতুন মানদণ্ড তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে ‘দৃশ্যম ২’ মুক্তির পর গল্পটি আরও এক ধাপ এগিয়ে যায় এবং জর্জ কুট্টির অতীত আবারও নতুনভাবে সামনে আসে।
তৃতীয় কিস্তি নিয়ে পরিচালক জিতু জোসেফ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, গল্পটি এবার ভিন্ন আবেগঘন পথ ধরবে। দর্শকদের প্রত্যাশা, এবার শুধু রহস্যের উত্তর নয়, জর্জ কুট্টির ভেতরের ভাঙন, ভয় এবং দীর্ঘদিনের চাপও পর্দায় গুরুত্ব পাবে। কিছু প্রতিবেদনে এটিকে ফ্র্যাঞ্চাইজির চূড়ান্ত অধ্যায় হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবিটি মুক্তির আগে সেন্সর প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এবিপি লাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দৃশ্যম ৩’ U/A 13+ সার্টিফিকেট পেয়েছে। অর্থাৎ পরিবার নিয়ে দেখার উপযোগী হলেও কিশোর দর্শকদের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নির্দেশনা থাকবে।
সব মিলিয়ে, ‘দৃশ্যম ৩’ চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রতীক্ষিত ভারতীয় সিনেমাগুলোর একটি। মোহনলালের শক্তিশালী অভিনয়, জিতু জোসেফের পরিকল্পিত গল্প বলার দক্ষতা এবং জর্জ কুট্টির অতীত-বর্তমানের মানসিক সংঘাত-সবকিছু মিলিয়ে সিনেমাটি দর্শকদের জন্য নতুন এক থ্রিলার অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। আগের দুই কিস্তিতে পরিবারকে রক্ষার জন্য যে মানুষটি অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন, এবার সেই জর্জ কুট্টি নিজের সিদ্ধান্তের পরিণতির মুখোমুখি কীভাবে দাঁড়ান-সেটিই দেখার অপেক্ষায় দর্শক।