বিচ্ছেদের গুঞ্জনে আলোচনায় মৌনী রায়, কত সম্পদের মালিক বলিউড অভিনেত্রী?

বিচ্ছেদের গুঞ্জনে আলোচনায় মৌনী রায়, কত সম্পদের মালিক বলিউড অভিনেত্রী?
ছবির ক্যাপশান, মৌনী রায় | ছবি: সংগৃহীত

ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন ও বলিউড অভিনেত্রী মৌনী রায় আবারও আলোচনায়। স্বামী সুরজ নাম্বিয়ার–এর সঙ্গে চার বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন বলে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ার এবং বিপুল সম্পদের হিসাব।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ ও এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে গোয়ায় বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন মৌনী ও সুরজ। দুবাইয়ে নববর্ষ উদ্‌যাপনের সময় পারস্পরিক পরিচিতদের মাধ্যমে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। পরে বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্ক এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে। যদিও বিচ্ছেদ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

 

পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের মেয়ে মৌনী রায়ের অভিনয়জীবনের শুরু ছোট পর্দা দিয়ে। প্রায় ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ভারতীয় টেলিভিশনের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। একতা কাপুরের জনপ্রিয় সিরিয়াল কিউ কি সাস ভি কাভি বহু থি–এর মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু হয় তাঁর। এরপর নাগিন, দেবোঁ কে দেব মহাদেব এবং ‘সতী’-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।

 

ছোট পর্দায় ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় নারীর চরিত্রে বেশি দেখা গেলেও বলিউডে এসে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন মৌনী। বিশেষ করে ব্রহ্মাস্ত্র সিনেমায় ‘জুনুন’ চরিত্রে অভিনয় তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, এই সিনেমার পর দর্শক তাঁকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেন। ওয়েব সিরিজ সুলতান অব দিল্লি–তেও ক্যাবারে ড্যান্সারের চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি।

 

অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, স্টেজ শো, ব্র্যান্ড প্রমোশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও বড় অঙ্কের আয় করেন মৌনী। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, মুম্বাইয়ে তাঁর প্রায় ২৫ কোটি রুপির একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া তাঁর গাড়ির সংগ্রহেও রয়েছে দামি কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ কোটি রুপি মূল্যের ‘মার্সিডিজ জিএলএস ৩৫০ডি’ এবং প্রায় ৬৭ লাখ রুপির ‘মার্সিডিজ বেঞ্জ ই-ক্লাস’।

 

ভারতীয় বিনোদনভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মৌনী রায়ের মোট সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি, ফ্যাশন শো বা ব্র্যান্ড উদ্বোধনে অংশ নিতে তিনি ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন বলেও জানা যায়।

 

এদিকে বিচ্ছেদের গুঞ্জনের পর অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ভারতীয় আইনে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সম্পদের ভাগাভাগি কীভাবে হয়। ভারতীয় পারিবারিক আইন অনুযায়ী, বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর আয়ের উৎস, যৌথ সম্পদ, আর্থিক নির্ভরতা এবং বিবাহিত জীবনের সময়কাল বিবেচনায় আদালত ভরণপোষণ বা আর্থিক নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। তবে ভারতের আইনে পশ্চিমা দেশের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পদের অর্ধেক ভাগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। আদালত পরিস্থিতি অনুযায়ী এককালীন অর্থ বা মাসিক ভরণপোষণ নির্ধারণ করতে পারে।

 

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, উভয় পক্ষ যদি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। মৌনী ও সুরজের ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক বিরোধ বা আইনি লড়াইয়ের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

 

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সংযত থাকা মৌনী রায় এখনো পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে বিচ্ছেদের খবর সামনে আসার পর তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ারের উত্থান এবং সম্পদের হিসাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলিউড অঙ্গনে।


সম্পর্কিত নিউজ