ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানাল কাতার

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানাল কাতার
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলিম বিশ্বে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি ও হিসাব-নিকাশ। কোরবানির এই ঈদ মুসলমানদের কাছে ত্যাগ, আনুগত্য ও আত্মশুদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছর জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় ঈদুল আজহার দিনক্ষণ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কাতারেও সম্ভাব্য ঈদের তারিখ নিয়ে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে দেশটির কাতার ক্যালেন্ডার হাউস।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী ২৭ মে কাতারে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। জিলহজ মাসের সম্ভাব্য হিসাব ও চাঁদের অবস্থান বিশ্লেষণ করে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কাতার ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

কাতার ক্যালেন্ডার হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস শুরু হতে পারে আগামী ১৮ মে থেকে। সে হিসেবে ১০ জিলহজ পড়বে ২৭ মে, যেদিন দেশটিতে ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফয়সাল আল আনসারি জানিয়েছেন, নতুন চাঁদের জন্ম হবে শনিবার রাত ১১টা ২ মিনিটে, দোহার স্থানীয় সময় অনুযায়ী। তবে ওই দিন সূর্যাস্তের সময় কাতারসহ আরব অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে চাঁদ দেখা কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী চাঁদের অবস্থান নির্ণয় করা গেলেও বাস্তবে তা দেখা যাবে কি না, সেটি অনেকাংশে আবহাওয়া, আকাশের স্বচ্ছতা এবং দিগন্তের দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করে। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী মাস শুরুর ঘোষণা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষই দেবে।

 

বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে চাঁদ দেখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুসরণ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাধারণত সরকারি চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার মাধ্যমে আসে।

 

ধর্মীয় গুরুত্বের দিক থেকে ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বড় উৎসব। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মরণে মুসলিমরা এ দিনে পশু কোরবানি করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে এই ঈদ মুসলমানদের মধ্যে ত্যাগ, সহমর্মিতা ও সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

 

কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই কেনাকাটা, কোরবানির পশুর বাজার এবং ভ্রমণ প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী মুসলমানদের মধ্যে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন আগাম চাঁদের অবস্থান সম্পর্কে অনেক নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী খালি চোখে চাঁদ দেখার বিষয়টি এখনও মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।


সম্পর্কিত নিউজ