ইরান প্রয়োজনে লড়াই করবে কিন্তু কোনো ছাড় নয়: বাঘাই

ইরান প্রয়োজনে লড়াই করবে কিন্তু কোনো ছাড় নয়: বাঘাই
ছবির ক্যাপশান, ইসমাইল বাঘাই | ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, তেহরানের উত্থাপিত ১৪ দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের সামনে আর কোনো কার্যকর পথ খোলা নেই। অন্য যেকোনো কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ বলেন, ইরানি জনগণের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৪ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নের দিকেই এগোতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে ধারাবাহিক ব্যর্থতার মুখে পড়তে হবে এবং এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে মার্কিন জনগণকেই।

 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি সময়ক্ষেপণ করবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে এবং এর দায়ভার শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ওপরই গিয়ে পড়বে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি সামরিক উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা আরও বেড়ে যায়। কয়েক দফা হামলা, পাল্টা হামলা এবং সামরিক প্রস্তুতির পর বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এখনো কাটেনি। ফলে স্থায়ী সমাধানের পথ জটিল হয়ে উঠেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতে মে মাসের শুরুতে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠায় ইরান। ইরান দাবি করছে, এই প্রস্তাব কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তেহরান কোনো অতিরিক্ত সুবিধা চাইছে না। বরং তারা নিজেদের সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত করা, যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের মতো বিষয়গুলোকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

তিনি জানান, ইরানের প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধ করা, ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক হামলা ও জব্দ অভিযান বন্ধ করা, বহু বছর ধরে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।

 

বাঘাই বলেন, এসব দাবিকে অযৌক্তিক বা দায়িত্বজ্ঞানহীন বলা ঠিক হবে না। তার ভাষায়, ইরানের উপস্থাপিত প্রতিটি বিষয় আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ইসরাইলের প্রভাবিত অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কঠোর ও অবাস্তব শর্ত আরোপ করছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের অবস্থান আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি তেল এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায়, অন্যদিকে প্রয়োজনে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সামরিক প্রস্তুতিও বজায় রাখবে।

 

মুখপাত্র বাঘাই বলেন, ইরান কখনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজন হলে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কূটনৈতিক পথও ব্যবহার করা হবে।

 

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরানের এই ১৪ দফা প্রস্তাব ঘিরে আগামী কয়েক সপ্তাহ মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থান কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হবে।


সম্পর্কিত নিউজ