{{ news.section.title }}
বট বাহিনী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ঐক্য ভাঙতে চাইছে পাকিস্তান: নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিজিটাল অপারেশন’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, বট ফার্ম এবং সমন্বিত অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস–এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সিক্সটি মিনিটস-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই অভিযোগ করেন। ১০ মে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরাইল বর্তমানে শুধু সামরিক যুদ্ধ নয়, বরং তথ্য ও প্রভাব বিস্তারের একটি ‘গোপন ডিজিটাল যুদ্ধের’ মুখোমুখিও রয়েছে।
তরুণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, কিছু দেশ পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করছে। তাদের লক্ষ্য হলো মার্কিন জনগণের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব তৈরি করা এবং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক দুর্বল করে দেওয়া।
নিজের বক্তব্যে তিনি একটি উদাহরণও তুলে ধরেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক সময় এমন বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় যেখানে নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক পরিচয় দিয়ে বলা হয়, ‘আমি সব সময় ইসরাইলকে সমর্থন করেছি, কিন্তু এখন আর পারছি না।’ পরে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, এসব বার্তার উৎস যুক্তরাষ্ট্র নয়; বরং বিদেশের কোনো নেটওয়ার্ক বা বটচালিত কেন্দ্র। তিনি দাবি করেন, এমন কিছু কার্যক্রম পাকিস্তান থেকেও পরিচালিত হয়েছে। তবে তিনি শুধু পাকিস্তানের নামই উল্লেখ করেননি। বরং বলেছেন, একাধিক দেশ এই ধরনের তথ্যযুদ্ধে জড়িত রয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট করে অন্য কোনো দেশের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ঘিরে আন্তর্জাতিক জনমত ব্যাপকভাবে বিভক্ত। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে তরুণদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার কারণে ইসরাইল আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ শুধু সীমান্ত বা অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার কার্যক্রম এবং জনমত প্রভাবিত করাও বড় কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে আসছে। পাকিস্তান সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, ইসরাইল ও পাকিস্তানের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তান ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে সমর্থন করে আসছে এবং সেই অবস্থান থেকে ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তথ্যযুদ্ধ, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং বটচালিত অপারেশন আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভূরাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আর সেই কারণেই বিভিন্ন দেশ এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইন তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।