{{ news.section.title }}
BRICS বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে যেতে পারেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আলোচনায় কী থাকছে?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরার লাইভ আপডেটে জানানো হয়েছে, ১৪ মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় BRICS পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে সফরটি এখনো সম্ভাব্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত সফরসূচি হিসেবে নয়।
নয়াদিল্লির এই বৈঠককে BRICS জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানীতেই ১৮তম BRICS সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে। তার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান, অগ্রাধিকার ও সম্ভাব্য যৌথ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ভারত বর্তমানে BRICS জোটের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক এই জোটে বর্তমানে ১১টি মূল সদস্য দেশ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন ও ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে BRICS জোট বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
আরাগচির সম্ভাব্য ভারত সফর এমন সময়ে আলোচনায় এসেছে, যখন পশ্চিম এশিয়া ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির BRICS বৈঠক শুধু নিয়মিত কূটনৈতিক আয়োজন নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকট নিয়ে অবস্থান বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।
ভারত ও ইরানের সম্পর্কও এই সফরের প্রেক্ষাপটে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ এবং কৌশলগত যোগাযোগ দীর্ঘদিনের আলোচ্য বিষয়। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং সমুদ্রপথে নিরাপদ বাণিজ্য চলাচল নিয়ে ভারতের স্বার্থ সরাসরি জড়িত। ফলে BRICS বৈঠকের ফাঁকে ভারত ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
BRICS এখন শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেদের অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা করছে। রাশিয়া, চীন, ভারত ও ইরানের মতো দেশগুলোর উপস্থিতি এই জোটকে ভূরাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তাই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য উপস্থিতি জোটের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় পশ্চিম এশিয়া সংকটকে আরও গুরুত্ব দিতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত আরাগচির সফর নিয়ে ইরান বা ভারতের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাঁর সম্ভাব্য সফরের খবর সামনে এসেছে। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরবর্তী সরকারি বিবৃতি বা বৈঠকের আনুষ্ঠানিক তালিকার দিকে নজর থাকবে।
নয়াদিল্লির এই বৈঠক থেকে BRICS দেশগুলো কী বার্তা দেয়, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটিই এখন কূটনৈতিক মহলের নজরে।