{{ news.section.title }}
সিআইএ ও মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান
ইরানে আবারও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজানের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ইরানের বিচার বিভাগের দাবি, আদালতে তিনি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানে গুপ্তচরবৃত্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় কঠোর শাস্তির বিষয়টি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ, সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মে মাসের শুরুতেও ইরান দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ইসফাহান প্রদেশের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকা থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ইরানের বিচার বিভাগ সাধারণত এসব মামলাকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হিসেবে তুলে ধরে। দেশটির কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অনেক মামলায় আসামিরা পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা পান না এবং স্বীকারোক্তি আদায়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে বলা হয়েছে, ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার বেড়েছে। বিশেষ করে গুপ্তচরবৃত্তি, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের বৈরিতা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইরান প্রায়ই অভিযোগ করে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক স্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালায়।
অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা ইরানের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুতর অভিযোগে বিচার হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তবে ইরান এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলে থাকে, দেশটির আদালত আইন অনুযায়ী রায় দেয় এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। ফলে এই ঘটনা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ বিচারিক পদক্ষেপ নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।