{{ news.section.title }}
যুদ্ধ ফের শুরু হলে ‘আরও চমক’ দেখাবে ইরান, সতর্কবার্তা আরাঘচির
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থার শঙ্কা এবং নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার মধ্যেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু হলে “আরও অনেক চমক” অপেক্ষা করছে।
বুধবার দেওয়া এক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা পোস্টে আরাঘচি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ থেকে ইরান যে অভিজ্ঞতা ও সামরিক জ্ঞান অর্জন করেছে, তা ভবিষ্যৎ যুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে। তার ভাষায়, যুদ্ধ ফিরে এলে “আরও বিস্ময়” দেখা যাবে।
ইরানি ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাঘচি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস পরবর্তীতে বিলিয়ন ডলার মূল্যের বহু যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীই প্রথমবারের মতো বহুল আলোচিত মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে এই দাবির স্বাধীন আন্তর্জাতিক যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের দাবি নিশ্চিত করেনি।
ইরানঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি দাবি করেছে, ৪০ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪২টি বিমান হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই তথ্যও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকরা নিশ্চিত করেনি। ফলে এ ধরনের দাবি সংবাদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে “ইরানি সূত্রের দাবি” হিসেবে উল্লেখ করা জরুরি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখছে না হোয়াইট হাউস। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার বিষয়ে অবহিত একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের নতুন প্রস্তাবে পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে কিছু ভাষাগত পরিবর্তন থাকলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে বিস্তারিত অঙ্গীকার নেই।
অ্যাক্সিওসের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার রাতে জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত করেছেন তিনি।
ট্রাম্প এর আগে অ্যাক্সিওসকে বলেছিলেন, ইরানের জন্য “ঘড়ির কাঁটা চলছে” এবং তেহরান যদি ভালো প্রস্তাব না দেয়, তাহলে তারা “আরও কঠিন আঘাতের” মুখে পড়বে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তি চান; তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো মানতে রাজি না হওয়ায় সামরিক বিকল্প আবার আলোচনায় ফিরে এসেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স মঙ্গলবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় “অনেক অগ্রগতি” হয়েছে এবং কোনো পক্ষই সামরিক অভিযান ফের শুরু করতে চায় না। তবে একই সময়ে ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকি এবং সামরিক বিকল্প নিয়ে বৈঠক পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে রেখেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় এখনো বড় ধরনের অগ্রগতির স্পষ্ট লক্ষণ নেই। ট্রাম্প দাবি করছেন, উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে তিনি হামলা স্থগিত করেছেন, কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানের মধ্যে বড় ফারাক রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ এবং সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা-এসব ইস্যুতে সমঝোতা এখনো দূরের বিষয়।
বর্তমান অচলাবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত বা স্থগিত করুক এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিক। অন্যদিকে তেহরান বলছে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের বৈধ অধিকার। ইরানের পাল্টা প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ছাড়, যুদ্ধ বন্ধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো দাবি রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আরাঘচির “চমক” মন্তব্য শুধু সামরিক হুমকি নয়; এটি আলোচনায় ইরানের দর-কষাকষির অবস্থানও তুলে ধরে। তেহরান বোঝাতে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন হামলা চালালে ইরান শুধু প্রতিরক্ষায় থাকবে না, বরং নতুন কৌশল ও সক্ষমতা ব্যবহার করবে। তবে এ ধরনের বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের কৌশলও দ্বিমুখী। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে সামরিক বিকল্প খোলা রাখছে। মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ইরানের নতুন প্রস্তাব যদি যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্বেগ দূর করতে না পারে, তাহলে সামরিক চাপ আরও বাড়তে পারে।