{{ news.section.title }}
ইরান হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প, নতুন শান্তি প্রস্তাবে চুক্তির সম্ভাবনা দেখছে ওয়াশিংটন
ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানোর পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর “খুব ভালো সম্ভাবনা” তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে ) দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, “আগামীকাল ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত হামলা চালানো হবে না।” তবে একই সঙ্গে বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে, যাতে গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে “মুহূর্তের নোটিশে” পূর্ণ মাত্রার বড় হামলা চালানো যায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো হামলার পরিকল্পনা আগে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। এমনকি হামলার প্রস্তুতি সত্যিই নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও রয়টার্স স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
উপসাগরীয় নেতাদের অনুরোধে হামলা স্থগিত
ট্রাম্পের দাবি, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন। কারণ, তাদের মতে, এমন একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরের দেশগুলোর জন্যও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, ওই নেতারা তাকে অনুরোধ করেছেন যেন পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত বন্ধ রাখা হয়, কারণ “গুরুতর আলোচনা” চলছে এবং একটি “খুব গ্রহণযোগ্য” চুক্তি হতে পারে। তবে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট হতে পারে। তার ভাষায়, “তারা কিছু একটা সমাধান করতে পারবে বলে খুব ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। যদি বোমা মেরে তাদের ধ্বংস না করেই আমরা এটা করতে পারি, তাহলে আমি খুব খুশি হব।”
পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে ইরানের প্রস্তাব
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন, তেহরানের অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা পাকিস্তানি একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসলামাবাদ ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে। গত মাসে পাকিস্তানের রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একমাত্র শান্তি আলোচনা হয়েছিল। এরপর থেকে পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় অগ্রগতি সহজ হচ্ছে না।
ইরানের প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হিসেবে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো সামনে এসেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এই প্রস্তাব অনেক দিক থেকে আগের প্রস্তাবের মতোই, যেটিকে ট্রাম্প গত সপ্তাহে “garbage” বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ইরানের হুঁশিয়ারি: নতুন হামলা হলে কঠোর জবাব
ট্রাম্প হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তেহরান এখনো কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নতুন কোনো “কৌশলগত ভুল” বা “ভুল হিসাব” না করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া জানিয়েছে, নতুন করে কোনো মার্কিন হামলা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “ট্রিগার টানতে প্রস্তুত”। ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থার উদ্ধৃতি অনুযায়ী, কমান্ডার আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, “নতুন কোনো আগ্রাসন বা হামলার জবাব দ্রুত, দৃঢ়, শক্তিশালী ও ব্যাপকভাবে দেওয়া হবে।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বরং দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত রেখে আলোচনার টেবিলে যাচ্ছে।
ওয়াশিংটনের অবস্থানে কি কিছুটা নমনীয়তা?
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত মিলছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দ তহবিলের এক-চতুর্থাংশ ছাড় করতে সম্মত হয়েছে। ওই তহবিলের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরান চায় সব জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হোক।
একই সূত্র আরও দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএর তত্ত্বাবধানে ইরানকে কিছু শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেওয়ার ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্র আগের তুলনায় বেশি নমনীয়তা দেখিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো ছাড়ের কথা নিশ্চিত করেনি।
ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা অজ্ঞাত এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আলোচনা চলাকালে ইরানের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখতেও নাকি যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, এই দাবি মিথ্যা।
মূল জটিলতা পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
আলোচনার বড় বাধা হলো, ইরান কতটা পারমাণবিক কার্যক্রম চালাতে পারবে এবং তা কত কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে এমন ব্যবস্থা, যাতে ইরান দ্রুত অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম উৎপাদনের পথে এগোতে না পারে। অন্যদিকে ইরান চায়, তার বেসামরিক পারমাণবিক কার্যক্রমের অধিকার স্বীকৃত থাকুক। এই জায়গাতেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান মতভেদ। ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক চাপ ধরে রেখে আলোচনায় সুবিধা নিতে চাইছে, আর ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি: কেন এত বড় চাপ
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। কাতার ২০২৪ সালে প্রতিদিন প্রায় ৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি এই প্রণালি দিয়ে রপ্তানি করেছিল।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ-ও বলছে, হরমুজ প্রণালি তেল ও গ্যাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশেষ করে কাতারের এলএনজি রপ্তানির বিকল্প পথ না থাকায় এই পথ বন্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ হলে বৈশ্বিক গ্যাস বাজারে বড় ধাক্কা লাগে। এই কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চাপ বাড়ছে। কারণ প্রণালি বন্ধ থাকলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান নয়, এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোও চাপে পড়ে।
কাতারের অর্থনীতি ও এলএনজি রপ্তানিতে সরাসরি প্রভাব
হরমুজ প্রণালির সংকট কাতারের জন্য বিশেষভাবে ভয়াবহ। মরুভূমির ছোট উপদ্বীপ কাতার গত তিন দশকে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভর করে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। মুক্তা আহরণনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশটি উঠে এসেছে এলএনজি রপ্তানিনির্ভর আধুনিক অর্থনীতিতে।
কাতার বহু বছর ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের বন্দরগুলোতে বছরে কয়েক হাজার কোটি ডলারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পাঠায়। ফলে প্রণালিটি কার্যত কাতারের জ্বালানি রপ্তানির প্রধান দরজা। এ দরজা অচল হলে কাতারের রাষ্ট্রীয় আয়, বাণিজ্য, সরবরাহ চেইন ও বিনিয়োগ পরিবেশ একসঙ্গে ধাক্কা খায়।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প হামলা স্থগিত করে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার কথা বলার পর তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বাজার এখনো অপেক্ষা করছে বাস্তবে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও নিয়মিত হয় কি না, তা দেখার জন্য।
যুদ্ধবিরতি টিকে আছে, কিন্তু ঝুঁকি শেষ হয়নি
ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের পর একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর। যুদ্ধবিরতি থাকলেও পুরো অঞ্চল এখনো অস্থির।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে ইরাকের দিক থেকে সৌদি আরব ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ড্রোন ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে সৌদি আরবে ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সৌদি আরব বলেছে, তারা ইরাকি আকাশসীমা থেকে প্রবেশ করা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি থাকলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা এখনো ভঙ্গুর। কোনো ভুল হিসাব, নতুন হামলা বা ব্যর্থ আলোচনা আবার সংঘাতকে বড় আকারে ফিরিয়ে আনতে পারে।
বাজারের প্রতিক্রিয়া: তেলের দাম কমলেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে
ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এটিকে আপাতত কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও বাজার পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ নিরাপদে চলাচল করছে কি না, ট্যাংকার চলাচল বাড়ছে কি না এবং ইরান সত্যিই অবরোধ শিথিল করছে কি না- এসব বাস্তব পরিবর্তন না দেখা পর্যন্ত জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও কঠোর অবস্থানের চাপ
রয়টার্সের পাশাপাশি Axios-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবকে হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা যথেষ্ট মনে করছেন না। তাদের মতে, ইরান আগের অবস্থান থেকে বড় কোনো ছাড় দেয়নি। ফলে চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।
এর মানে হলো, ট্রাম্প প্রকাশ্যে চুক্তির সম্ভাবনার কথা বললেও তার প্রশাসনের ভেতরে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে সংশয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে তেহরান সময়ক্ষেপণ করছে বা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যথেষ্ট ছাড় দিচ্ছে না, তাহলে আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রথমত, ইরানের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণযোগ্য মনে করে কি না। যদি ওয়াশিংটন মনে করে প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ নেই, তাহলে আলোচনা আবার ভেঙে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি বাস্তবে খুলবে কি না। কারণ যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা বড় শর্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
তৃতীয়ত, উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূমিকা। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধ বিস্তার চায় না। কারণ সংঘাত দীর্ঘ হলে তাদের জ্বালানি রপ্তানি, নিরাপত্তা, পর্যটন ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি কমানোর একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এটিকে এখনই স্থায়ী অগ্রগতি বলা কঠিন। কারণ ইরান এখনো কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো হামলার প্রস্তুতি বজায় রাখছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান এখনো বড়।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স