{{ news.section.title }}
কিয়েভে রুশ হামলায় ২৪ নিহত, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি জেলেনস্কির
রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার পর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। হামলার পর কিয়েভে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বৃহস্পতিবার কিয়েভের দারনিতস্কি জেলায় নয়তলা একটি আবাসিক ভবনে রুশ হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান। শুক্রবার শহরটিতে শোক দিবস পালন করা হয়। পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং জনসমাগমমূলক কিছু কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
জেলেনস্কি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া রাশিয়ার কোনো হামলা শাস্তি ছাড়া থাকবে না। তাঁর দাবি, রাশিয়ার তেলশিল্প, সামরিক উৎপাদন অবকাঠামো এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের হামলা ছিল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় আকাশ হামলাগুলোর একটি। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, কয়েক দিনের ব্যবধানে রাশিয়া দেশটির বিভিন্ন স্থানে দেড় হাজারের বেশি ড্রোন এবং বহু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। কিয়েভে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
জেলেনস্কি জানান, তিনি সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ পাল্লার হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়া ইউক্রেনের ২০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়, রাষ্ট্রীয় বাসভবন, সরকারি ভবন ও সামরিক কমান্ড পোস্ট থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়া বেলারুশকে যুদ্ধের গভীরে টেনে আনার চেষ্টা করছে। মস্কো ও মিনস্কের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, রাশিয়া নতুন সামরিক অভিযানে বেলারুশকে যুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
কিয়েভে হামলার পর শুক্রবার ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে দীর্ঘ পাল্লার ড্রোন হামলা চালায়। রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারসহ জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। রিয়াজানের আঞ্চলিক গভর্নরের দাবি, ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছে। স্থানীয় তেল শোধনাগারটি রাশিয়ার বড় শোধনাগারগুলোর একটি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেন ২০৫ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেছে। দুই পক্ষের প্রকাশিত ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া ইউক্রেনীয় সেনাদের আবেগঘন দৃশ্য এবং রুশ সেনাদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এই বিনিময় গত সপ্তাহের তিন দিনের অস্ত্রবিরতির অংশ বলে জানানো হয়েছে। দুই পক্ষ মোট এক হাজার করে বন্দি বিনিময়ের প্রত্যাশা করছে।
নিহত সেনাদের মরদেহও বিনিময় হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ৫২৬টি মরদেহ হস্তান্তর করেছে, আর বিনিময়ে নিজেদের ৪১ সেনার মরদেহ পেয়েছে। যুদ্ধের চতুর্থ বছরে এমন বন্দি ও মরদেহ বিনিময় মানবিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, একই সময়ে কিয়েভে হামলা ও রাশিয়ার ভেতরে পাল্টা ড্রোন হামলা শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুদ্ধ শেষের দিকে এগোতে পারে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তবে জেলেনস্কি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, মস্কোর যুদ্ধ শেষ করার প্রকৃত ইচ্ছা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, কিয়েভে সর্বশেষ হামলা শান্তি প্রচেষ্টাকে বিলম্বিত করতে পারে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা চলছিল, কিন্তু ইউক্রেন বড় আঘাত পেয়েছে। কিয়েভের ধ্বংসস্তূপ, পাল্টা হামলা এবং বন্দি বিনিময়ের এই জটিল বাস্তবতা দেখাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো কূটনীতি ও সামরিক উত্তেজনার মাঝপথে আটকে আছে।