{{ news.section.title }}
নিষেধাজ্ঞা না তুলেই রুবিওকে ঢুকতে দিল চীন, ভেতরের কৌশল কী?
চীনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কীভাবে বেইজিং সফরে গেলেন, তা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরসঙ্গী হিসেবে রুবিও বেইজিংয়ে পৌঁছান। তবে চীনের নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি। এর বদলে চীনা কর্তৃপক্ষ তার নামের চীনা অনুবাদে সূক্ষ্ম পরিবর্তন এনে এক ধরনের কূটনৈতিক পথ তৈরি করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কো রুবিওর পদবি Rubio চীনা ভাষায় আগে যে অক্ষর দিয়ে লেখা হতো, এবার তার বদলে ভিন্ন একটি চীনা অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি নথিতে তার নাম কার্যত ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে। প্রতিবেদনে একে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা না তুলেও তাকে সফরে অংশ নিতে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
রুবিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে চীনের নিষেধাজ্ঞা তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছিল তিনি যখন ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ছিলেন। ২০২০ সালে চীন তাকে দুই দফা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমন, শিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রুবিও দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিলেন। এসব অবস্থানের কারণেই বেইজিং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
চীনা কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, রুবিওর ওই সময়কার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান মার্চে বলেছিলেন, রুবিওর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হিসেবে তার চীন সম্পর্কিত কথা ও কর্মকাণ্ডের কারণে। অর্থাৎ বেইজিং এখন বিষয়টিকে তার আগের রাজনৈতিক ভূমিকায় সীমাবদ্ধ করে দেখাতে চাইছে।
রুবিওর নাম বদলের বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ তিনি ট্রাম্প প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার কিছুদিন আগে থেকেই চীনা সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার নামের নতুন চীনা রূপ ব্যবহার শুরু করে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখতেই বেইজিং আগেভাগে এই পরিবর্তন আনে।
নাম পরিবর্তনের এই কৌশলের মাধ্যমে চীন একদিকে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার অবস্থান বজায় রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিককে প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় শক্তির সম্পর্কের ক্ষেত্রে কখনও কখনও ভাষা, প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার ভেতর দিয়েই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর রাস্তা তৈরি করা হয়।
রুবিওর চীনবিরোধী অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্টের অন্যতম সমর্থক ছিলেন। ২০২১ সালে পাস হওয়া ওই আইনে শিনজিয়াং অঞ্চল থেকে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হয় যে তা জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত নয়। সে সময় রুবিও বলেছিলেন, যেসব কোম্পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পরিষ্কার করেনি, তারা আর যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে অজান্তে নৃশংসতা ও গণহত্যার সহযোগী বানাতে পারবে না।
ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠকের প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফর আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেইজিং বৈঠকে বাণিজ্য, তাইওয়ান, ইরান সংকটসহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় আলোচনায় এসেছে। এমন সময়ে চীনের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত একজন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতা ও বাস্তববাদী কূটনীতির নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে চাইলে এই নিষেধাজ্ঞা আবারও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার সুযোগ বেইজিংয়ের হাতে থেকে যাচ্ছে। তবে এবারের সফরে নামের চীনা রূপ বদলে রুবিওকে গ্রহণ করার ঘটনা দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রকাশ্য বিরোধের মাঝেও প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক পথ খুঁজে নিতে পারে।