১৭ দিন খাবার ছাড়াই ফ্রন্টলাইনে সেনা, কী ঘটছে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে?

১৭ দিন খাবার ছাড়াই ফ্রন্টলাইনে সেনা, কী ঘটছে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে?
ছবির ক্যাপশান, ১৭ দিন খাবার ছাড়াই ফ্রন্টলাইনে সেনা, কী ঘটছে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে?

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনীয় সেনাদের জন্য খাবার, পানি ও ওষুধ পৌঁছানো এখন জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি চারজন কঙ্কালসার ইউক্রেনীয় সেনার ছবি প্রকাশের পর দেশটিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তারা ডনেস্ক অঞ্চলের ওস্কিল নদীর পূর্ব তীরে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে আটকে পড়েছিলেন, যেখানে দীর্ঘদিন খাবার সরবরাহ পৌঁছায়নি।

কার্টের ওপর বেশি নির্ভর করছে। ভিডিও ক্যামেরাযুক্ত রোবট কার্ট গোলাবারুদ ও খাবার নিয়ে যেতে পারে, আবার আহত সেনাদের ফিরিয়েও আনতে পারে। তবে এগুলো চালাতে নজরদারি ড্রোন দরকার হয়। ভারী ড্রোনগুলো কয়েক কেজি মালামাল ফেলে আবার ফিরে আসতে পারে, যা অনেক বিচ্ছিন্ন পোস্টের জন্য একমাত্র ভরসা।


ইউক্রেনের ড্রোনযুদ্ধের অগ্রদূতদের একজন আন্দ্রি প্রোনিনের মতে, অন্তত এক বছর ধরে ফ্রন্টলাইন লজিস্টিকসের বড় অংশ ড্রোন বা রোবট কার্ট দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সময়মতো কাজ করছে। তবে জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোলাই মিত্রোখিন মনে করেন, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর খুব ছোট অংশ, আনুমানিক ১০ শতাংশের বেশি নয়, ড্রোনে ফেলা খাবারের ওপর নির্ভর করতে পারে। তার মতে, ড্রোন সরবরাহ ব্যাহত হলে ক্ষুধার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।


রুশ সেনাদের অবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ছোট ছোট দলে অগ্রসর হতে গিয়ে তারা প্রায়ই ইউক্রেনীয় ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়। তাজিক শ্রমিক মোহাম্মদ, যাকে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন, আল জাজিরাকে জানান, তাকে দেওয়া হয়েছিল সামান্য পানি ও কয়েকটি ছোট চকোলেট বার। পূর্ব লুহানস্ক অঞ্চলের একটি পরিত্যক্ত গ্রামে প্রায় এক মাস কাটানোর সময় তিনি কাঁচা ম্যাকারনি ও খাবারের টুকরো খুঁজে বেঁচে ছিলেন।


ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের দাবিও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাদের মতে, দক্ষিণ খেরসন অঞ্চলে দনিপ্রো নদীর দ্বীপগুলোতে শত শত, এমনকি হাজারো রুশ সেনা খাবার ও গোলাবারুদের গুরুতর সংকটে পড়েছিল। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।


চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন শুধু অস্ত্র ও ভূখণ্ডের লড়াই নয়, সরবরাহ ব্যবস্থারও কঠিন পরীক্ষা। ড্রোন আকাশে থাকলে খাবারের একটি প্যাকেটও ফ্রন্টলাইনে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ মিশন হয়ে যায়। আর সেই ব্যর্থতার মূল্য দিতে হচ্ছে দুই পক্ষের সামনের সারির সেনাদের, অনেক সময় ক্ষুধা, পানিশূন্যতা ও বিচ্ছিন্নতার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে।


সম্পর্কিত নিউজ