ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানাল পাকিস্তান

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানাল পাকিস্তান
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা প্রস্তুতি। কোরবানির এই ঈদ শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবতার এক অনন্য বার্তা বহন করে। প্রতি বছর জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় ঈদুল আজহার তারিখ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পাকিস্তানে কবে ঈদ উদযাপিত হতে পারে, সে বিষয়ে আগাম পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো।

পাকিস্তানের মহাকাশ ও ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডল গবেষণা কমিশন (সুপারকো) জানিয়েছে, আগামী ২৭ মে দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

 

সুপারকোর হিসাব অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরির জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ ১৭ মে রাত ১টা ১ মিনিটে জন্ম নিতে পারে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, ওই দিন সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স প্রায় ১৮ ঘণ্টা ৩০ মিনিট হবে, যা নতুন চাঁদ দেখার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া পাকিস্তানের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সূর্যাস্ত ও চাঁদাস্তের মধ্যে প্রায় ৬০ মিনিট ব্যবধান থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সুপারকো। সাধারণত এ ধরনের ব্যবধান থাকলে খালি চোখে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।

 

সংস্থাটি আরও বলেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং আকাশ পরিষ্কার থাকলে ১৭ মে সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ শক্তিশালী। তবে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া, দিগন্তের স্বচ্ছতা এবং পর্যবেক্ষণ পরিস্থিতির ওপর। এই হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১৮ মে থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হতে পারে। সে হিসেবে ১০ জিলহজ পড়বে ২৭ মে, অর্থাৎ ওই দিন দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তবে চূড়ান্তভাবে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করবে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রুয়েত-ই-হিলাল কমিটি। দেশটির ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য এবং খালি চোখে চাঁদ দেখার তথ্য যাচাই-বাছাই করেই কমিটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে থাকে। সুপারকো জানিয়েছে, তাদের দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের ভিত্তিতে তৈরি। ইসলামি মাস শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র রুয়েত-ই-হিলাল কমিটির কাছেই রয়েছে।

 

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলমানদের জন্য ত্যাগের অন্যতম বড় শিক্ষা বহন করে। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান ত্যাগের স্মরণে মুসলিমরা পশু কোরবানি দেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। ঈদকে ঘিরে পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পশুর হাট, কোরবানির প্রস্তুতি এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত বাড়তে শুরু করেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন আগাম চাঁদ দেখার সম্ভাব্য হিসাব অনেক বেশি নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবুও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী খালি চোখে চাঁদ দেখার ঐতিহ্য এখনও মুসলিম দেশগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।


সম্পর্কিত নিউজ