ট্রাম্পের চীন সফরে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করতে পারে চীন! বললেন বাঘাই

ট্রাম্পের চীন সফরে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করতে পারে চীন! বললেন বাঘাই
ছবির ক্যাপশান, এআই ছবি

ইরান বলছে, চলমান যুদ্ধ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চীন বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ওয়াশিংটনের সফর ওয়াশিংটনের বিষয়, তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত সপ্তাহে বেইজিং সফরে গিয়ে তেহরানের অবস্থান চীনা নেতৃত্বকে জানিয়ে এসেছেন।

বাঘাই বলেন, চীন পুরোপুরি অবগত যে এটি ইরানের বেছে নেওয়া যুদ্ধ নয়, বরং প্রয়োজনের যুদ্ধ, যা ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি আকস্মিক কোনো জরুরি পরিস্থিতির ফল নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা, যা আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে চলেছে।

 

তার বক্তব্যে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা প্রসঙ্গও উঠে আসে। বাঘাই বলেন, চীনের কাছে এসব অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, চীন সুযোগ পেলে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন কোনো অগণিত পরিণতিসম্পন্ন পদক্ষেপ বা বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিতে পারে, যা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকেও দুর্বল করে।

 

ইরানের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে নতুন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের জবাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে ইরান যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ছাড়, মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির মতো শর্ত তুলে ধরে। ট্রাম্প সেই শর্তগুলো নাকচ করার পর তেলের বাজারেও নতুন অস্থিরতা দেখা দেয়।

 

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেইজিং সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল আরাগচির প্রথম চীন সফর। ওই সফরের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ নিয়ে ইরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করা, ট্রাম্পের সফরের আগে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা।

 

চীনও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে চীনভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এসব পদক্ষেপকে বেআইনি ও একতরফা বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, চীন তার কোম্পানিগুলোর আইনগত অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন চীনের কূটনৈতিক অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ বেইজিং তেহরানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার, একই সঙ্গে জ্বালানি বাজার, হরমুজ প্রণালি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে চীনের সরাসরি স্বার্থ রয়েছে। হরমুজ প্রণালি অস্থিতিশীল থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

 

বাঘাইয়ের বক্তব্য তাই শুধু ইরানের কূটনৈতিক ভাষ্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের চীন সফরের আগে তেহরান স্পষ্ট করতে চাইছে, যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে বেইজিং তাদের অবস্থান বুঝছে। এখন নজর থাকবে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান ইস্যুতে কতটা সক্রিয় ভূমিকা নেয় এবং হরমুজ সংকট কমাতে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে আসে কি না।


সম্পর্কিত নিউজ