বাস্তব, ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ শুরু: প্রথম ভাষণে বিজয়

বাস্তব, ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ শুরু: প্রথম ভাষণে বিজয়
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

চেন্নাইয়ে শপথ নেওয়ার পর প্রথম ভাষণেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতির ময়দানে উঠে আসা বিজয় নিজেকে পরিচয় করালেন একজন “সাধারণ মানুষ” হিসেবে। তাঁর বক্তব্যে ছিল আত্মপরিচয়, জবাবদিহি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজয় বলেন, তিনি কোনো রাজবংশ বা বিশেষ সুবিধাভোগী পরিবার থেকে আসেননি। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের সেই পরিচয়ই তাঁকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করেছে। ভোটারদের আস্থার জবাব দিতে তিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতির পথে হাঁটবেন না বলেও জানান।

 

প্রথম ভাষণে ৫১ বছর বয়সী বিজয় বলেন, তামিলনাড়ুতে “বাস্তব, ধর্মনিরপেক্ষ, সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন যুগ” শুরু হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি জনগণের কাছে সময় চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি সরকারের কাজ বিচার করতে যুক্তিসংগত সময় দেওয়া প্রয়োজন। সেই সময়ের মধ্যেই মানুষ তাঁর সরকারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে পারবেন।

 

বিজয়ের ভাষণের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ক্ষমতাকেন্দ্র নিয়ে তাঁর মন্তব্য। তিনি বলেন, “আমাকে ছাড়া আর কোনো ক্ষমতাকেন্দ্র থাকবে না। আমিই একমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্র।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের দায় সরাসরি তাঁর ওপরই থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার কোনো জোটসঙ্গীর চাপে পরিচালিত হবে না, এমন বার্তাও এতে রয়েছে।

 

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর বাইরে বিজয়ের উত্থানকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার দল টিভিকে নেতৃত্বাধীন সরকার এখন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জনআকাঙ্ক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারবে কি না, সেটিই বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে জোট সমর্থনের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভার গঠন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে শুরু থেকেই নজর রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার তামিলনাড়ু সরকারের সঙ্গে কাজ করে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক নতুন সরকারের প্রশাসনিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি রুপি। এর মধ্যে ২১৩ কোটি রুপি সঞ্চয়ী হিসাবে এবং ১০০ কোটি রুপি বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানতে রাখা আছে। এই আর্থিক তথ্য সামনে আসার পর স্বচ্ছতা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিজয় জানিয়েছেন, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে এগোনোর আগে স্বচ্ছতার স্বার্থে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের বিষয়টি তিনি বিবেচনা করবেন।

 

নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম প্রশাসনিক পদক্ষেপেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ছাপ দেখা গেছে। সরকারি ফাইলে তাঁর প্রথম স্বাক্ষরের মাধ্যমে গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই দুই সিদ্ধান্ত জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় তা শুরুতেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

বিজয়ের নয় সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তরুণ মুখের মিশ্রণ রাখা হয়েছে। প্রবীণ নেতা কে এ সেনগোত্তাইয়ান মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। একই সঙ্গে ডা. টি কে প্রভু ও এস কীর্থনার মতো তরুণ মুখও জায়গা পেয়েছেন। টিভিকের পক্ষ থেকে আধব অর্জুন, এন আনন্দ, আর নির্মল কুমার এবং কে জি অরুণরাজ শপথ নিয়েছেন।

 

তবে কংগ্রেস থেকে কোনো নেতা নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনের সময়ে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেসই প্রথম টিভিকে সমর্থনে এগিয়ে এসেছিল বলে জানা গেছে। ফলে মন্ত্রিসভার এই বিন্যাস রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

 

প্রথম ভাষণেই বিজয় যে বার্তা দিয়েছেন, তা স্পষ্ট। তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে চান। একই সঙ্গে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের দায় নিজের কাঁধে নিতে চান। এখন প্রশ্ন, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তব প্রশাসনে কতটা দৃশ্যমান হবে এবং তামিলনাড়ুর মানুষ কত দ্রুত তার ফল দেখতে পাবে।


সম্পর্কিত নিউজ