{{ news.section.title }}
ভারত পানি বন্ধ করলে যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে পাকিস্তান: ইসহাক দার
ভারত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে তা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। মঙ্গলবার, ৬ মে কূটনীতিক ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, পানির প্রবাহ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করবে।
ইসহাক দার বলেন, পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের যে কোনো প্রচেষ্টা পাকিস্তানের নিরাপত্তা, কৃষি, অর্থনীতি এবং জনগণের জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত। তার ভাষায়, এ ধরনের পদক্ষেপকে পাকিস্তান শুধু কূটনৈতিক সংকট হিসেবে নয়, বরং আগ্রাসন হিসেবে দেখবে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র সিন্ধু পানি চুক্তি। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় সিন্ধু অববাহিকার নদীগুলোর পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। পাকিস্তানের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বড় অংশ এই নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পানি ইস্যু দেশটির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ইসহাক দার অভিযোগ করেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে চাপের কৌশল ব্যবহার করছে। তার দাবি, গত বছরের এপ্রিলের আগেই ভারতীয় হুমকি পাকিস্তান পর্যবেক্ষণ করছিল। তিনি বলেন, পানি প্রবাহে বাধা দেওয়া বা পানিকে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার বানানো আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পরিপন্থী।
বক্তব্যে তিনি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের শক্তি প্রয়োগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ইসহাক দারের দাবি, ওই সময় ভারতের পদক্ষেপ ছিল বেআইনি। তিনি বলেন, পাকিস্তান সব সময় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে, তবে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার সক্ষমতা ও অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ভারতের সামরিক স্থাপনাগুলোতে নিখুঁত ও পরিমিত আঘাত হানা হয়েছে। তার দাবি, এসব আঘাতে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ নথিভুক্ত রয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করে ইসহাক দার বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত শান্তি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, কূটনীতি, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাই দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। ইসহাক দারের ভাষায়, এই ধরনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের চরমপন্থি মতাদর্শনির্ভর অবস্থান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, এমন অবস্থান শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
কাশ্মীর ইস্যুতেও পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ইসহাক দার। তিনি বলেন, কাশ্মীর এখনো অমীমাংসিত একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। জাতিসংঘের দায়িত্বশীল সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান বৈশ্বিক শান্তি উদ্যোগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে স্থায়ী শান্তির জন্য কাশ্মীর সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান জরুরি।
বক্তব্যে তিনি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকা, চীনের সঙ্গে সিপেকের মাধ্যমে অংশীদারত্ব জোরদার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চলমান সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন। ইসহাক দার বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অপরিহার্য।
মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে আল-কুদস আল-শরিফ বা জেরুজালেমের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।