হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিপাকে কাতার: গ্যাসনির্ভর অর্থনীতির সামনে বড় ধাক্কা

হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিপাকে কাতার: গ্যাসনির্ভর অর্থনীতির সামনে বড় ধাক্কা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরের ছোট্ট উপদ্বীপ কাতার গত তিন দশকে প্রাকৃতিক গ্যাসের জোরে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। একসময় মুক্তা আহরণনির্ভর অর্থনীতির দেশটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানির মাধ্যমে গড়ে তোলে বিশাল সম্পদ, আধুনিক রাজধানী দোহা, মেট্রো নেটওয়ার্ক, বিলাসবহুল অবকাঠামো, বিশ্বকাপ আয়োজন এবং শত শত বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল।

কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই অর্থনৈতিক শক্তির ভিতেই বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। কাতারের গ্যাস রপ্তানির প্রধান পথ প্রায় অচল হয়ে পড়ায় দেশটির এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় আয়, পর্যটন, আমদানি, ব্যবসায়িক আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈচিত্র্যকরণ পরিকল্পনা একই সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে।

 

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কাতারের উপকূল থেকে কার্যত কোনো গ্যাস বের হতে পারেনি এবং দেশটি সেই সমুদ্রপথ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যেখান দিয়ে গাড়ি থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য পর্যন্ত বহু প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাস লাফান শিল্পাঞ্চল বন্ধ, হামাদ বন্দরের ক্রেন স্থবির এবং দোহার হোটেল ও দোকানপাটে আগের ব্যস্ততা নেই।

 

কাতারের সম্পদের মূল উৎস ছিল গ্যাস

কাতারের অর্থনৈতিক উত্থানের শুরু মূলত ১৯৯০-এর দশকে। দেশটির উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নর্থ ফিল্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রগুলোর একটি। সেখানকার গ্যাসকে মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তরলে পরিণত করা হয়, যাতে তা জাহাজে করে বিশ্ববাজারে পাঠানো যায়।

এই প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তই কাতারকে আঞ্চলিক পাইপলাইনের সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে এনে এশিয়া ও ইউরোপের বড় বাজারে সরাসরি গ্যাস রপ্তানিকারক শক্তিতে পরিণত করে। ১৯৯৬ সালে জাপানে ৬০ হাজার টনের প্রথম এলএনজি চালান পাঠানোর মধ্য দিয়ে কাতারের গ্যাস সাম্রাজ্যের যাত্রা শুরু হয়। ২০১০ সালের মধ্যে দেশটির উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ৭৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছায়।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাস ও গ্যাস-সংশ্লিষ্ট রপ্তানি থেকে কাতার সরকারের ৬০ শতাংশের বেশি রাজস্ব আসে। এই অর্থ দিয়েই মরুভূমির রাস্তা বদলে গেছে করপোরেট টাওয়ারে, দোহা থেকে লুসাইল পর্যন্ত মেট্রো তৈরি হয়েছে, কৃত্রিম তুষারসহ বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে এবং ৬০০ বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল তৈরি হয়েছে।

 

Qatar halts natural gas production after Iranian attacks

 

হরমুজ প্রণালি কেন কাতারের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই প্রণালির মাধ্যমে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ এবং এক-চতুর্থাংশের বেশি বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্য চলাচল করে।

কাতারের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর বিকল্প পাইপলাইন থাকলেও কাতার ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালির পেছনে আটকে আছে। ফলে প্রণালি বন্ধ বা অচল হয়ে গেলে দেশটির এলএনজি রপ্তানি সরাসরি বিপর্যস্ত হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও কাতারের কিছু এলএনজি ট্যাংকার বিশেষ ব্যবস্থায় পাকিস্তানের উদ্দেশে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। তবে এগুলো নিয়মিত বাণিজ্যিক চলাচল নয়; বরং ইরান ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে অনুমোদিত সীমিত চালান।

 

About 10% of global container fleet caught in Hormuz backup, shipping CEO  says | Reuters

 

রাস লাফানে হামলা, উৎপাদন সক্ষমতায় বড় ক্ষতি

কাতারের গ্যাস উৎপাদন ও রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র রাস লাফান। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় রাস লাফান প্ল্যান্টের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে কাতারের উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

আল জাজিরা ও রয়টার্সের তথ্যেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারএনার্জি কিছু দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তিতে “ফোর্স মেজর” ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের গ্রাহকরাও রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাস লাফানে হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আল জাজিরা আরও জানিয়েছে, কাতারএনার্জির প্রধান সাদ আল-কাবি বলেছেন, হামলায় কাতারের ১৪টি এলএনজি ট্রেনের মধ্যে দুটি এবং গ্যাস-টু-লিকুইডস স্থাপনার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বছরে ১২ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন এলএনজি উৎপাদন কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র কাতারের রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা |  The Business Standard

অর্থনীতিতে বড় সংকোচনের পূর্বাভাস

হরমুজ প্রণালি অচল হওয়া এবং গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় কাতারের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসে বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দেশভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কাতারের প্রকৃত জিডিপি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

রয়টার্সও আইএমএফের পূর্বাভাস উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির সরবরাহ বিঘ্নের কারণে কাতারসহ কয়েকটি অর্থনীতি বড় ধাক্কায় পড়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএমএফ ২০২৬ সালে কাতারের অর্থনীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এশিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ হেলাল বলেন, কাতারের জন্য গ্যাস চালান “ভিত্তিমূলক” বিষয়। তার ভাষায়, “এনার্জির সম্পদ ছাড়া এখানে যা দেখা যাচ্ছে তার কিছুই সম্ভব হতো না।” তিনি আরও বলেন, এ কারণেই কাতার দ্রুত একটি কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে।

 

4,300+ Qatar Beach Stock Photos, Pictures & Royalty-Free Images - iStock |  Doha, Qatar pearl

 

বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় চাপ

হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব শুধু কাতারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের রয়টার্সকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানির বিঘ্ন দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তার ভাষায়, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৭০টি জাহাজ চলাচল করত, এখন সেখানে মাত্র ২ থেকে ৫টি জাহাজ পার হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিঘ্নে বাজার থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে যাচ্ছে বলে আরামকো প্রধান জানিয়েছেন। এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

420+ Qatar Petroleum Stock Photos, Pictures & Royalty-Free Images - iStock  | Qatar oil

 

পর্যটন ও ব্যবসায়িক আস্থায় ধাক্কা

গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে কাতার দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন, আন্তর্জাতিক ব্যবসা, ক্রীড়া আয়োজন ও আর্থিক খাতকে বিকল্প অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছে। ২০১৯ সালে বিদেশি কোম্পানির স্থানীয় অংশীদার রাখার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়। ট্রানজিট যাত্রীদের বিলাসবহুল হোটেলে থাকার সুবিধা দেওয়া হয়। ফর্মুলা ওয়ান থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে কাতার নিজেকে আঞ্চলিক ইভেন্ট হাব হিসেবে তুলে ধরছিল।

কিন্তু যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেই পরিকল্পনাও ধাক্কা খেয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সতর্কতার পর কাতারে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা কমেছে। অনেক বহুজাতিক কোম্পানি আঞ্চলিক অস্থিরতার ভয়ে কর্মীদের দেশটির বাইরে পাঠিয়েছে।

প্রতিবেদনে দোহার ঐতিহ্যবাহী বাজার সুক ওয়াকিফের ব্যবসায়ীদের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, সাধারণত পর্যটন মৌসুমের শেষ দিকে যে ভিড় থাকে, এবার তা অনেক কম। লুসাইলের প্লেস ভেনডোম মলের ফোয়ারা প্রদর্শনীতে একসময় ভিড় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে প্রায় দর্শকশূন্য পরিবেশ দেখা গেছে।

 

A marketplace with stalls filed with goods on both sides of a street. Few people can be seen.

খাদ্য আমদানিতেও নতুন চাপ

কাতার তার খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে যাওয়ায় সমুদ্রপথে আসা খাদ্যপণ্য, ফলমূল, শস্য ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। ইউরোপ থেকে আসা তাজা পণ্য এবং আমেরিকা অঞ্চল থেকে আসা শস্য এখন ব্যয়বহুল আকাশপথে পাঠানো হচ্ছে বা সৌদি আরব হয়ে স্থলপথে আনা হচ্ছে।

সাধারণভাবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমদানি পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার কথা। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে সুপারমার্কেট কর্মীদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকারি ভর্তুকির কারণে আমদানি পণ্যের দাম এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার জোরালোভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করছে।

 

কাতারের হাতে এখনো বড় আর্থিক সুরক্ষা আছে

সংকট গভীর হলেও কাতার তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় নেই। দেশটির দীর্ঘদিনের গ্যাস আয়ের কারণে বড় আর্থিক সঞ্চয়, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এবং বৈদেশিক সম্পদের জোর রয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতিবিদদের মতে, এলএনজি আয় কয়েক বছর ধরে বড় ধাক্কায় পড়লেও কাতার বেতন, ভর্তুকি ও জরুরি সেবা চালিয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসও চলতি মাসে কাতারের সার্বভৌম রেটিং বজায় রেখেছে এবং দেশটির উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও বৈদেশিক সম্পদের কথা উল্লেখ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে সমস্যা হলো, কাতারের জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। ফলে কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে বা বিদেশি কর্মীরা দেশ ছাড়তে শুরু করলে অর্থনীতির অন্য খাতও দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আহমেদ হেলাল বলেন, বড় আকারে অভিবাসী কর্মী বেরিয়ে গেলে পরিস্থিতি “ভীতিকর” হয়ে উঠতে পারে।

 

The BEST Things to Do in Doha - Top Activities in 2026 | GetYourGuide

 

স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত

কাতারের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় ভিত্তি ছিল স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি। বিদেশি বিনিয়োগকারী, পর্যটক, আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও উচ্চ দক্ষ কর্মীদের আকর্ষণ করতে কাতার নিজেকে নিরাপদ, আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছিল।

কিন্তু বিমানবন্দরে বিমান হামলার সতর্কতা, রাস লাফানে হামলার ছবি এবং জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হওয়ায় সেই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো ফ্রেডেরিক স্নাইডারের বিশ্লেষণ উল্লেখ করা হয়েছে। তার মতে, যুদ্ধ কাতারের হাইড্রোকার্বন এবং পোস্ট-হাইড্রোকার্বন, দুই ধরনের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেই একসঙ্গে আঘাত করেছে।

সামনে কী হতে পারে

কাতারের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, রাস লাফানের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা কত দ্রুত মেরামত করা যায় এবং সীমিত এলএনজি চলাচল নিয়মিত বাণিজ্যিক প্রবাহে রূপ নেয় কি না, তার ওপর।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সঙ্গে বিশেষ ব্যবস্থায় কয়েকটি কাতারি এলএনজি ট্যাংকার হরমুজ পার হলেও এটি এখনো স্বাভাবিক রপ্তানি ব্যবস্থার বিকল্প নয়। বরং এই সীমিত চলাচল দেখাচ্ছে, সংঘাতের ঝুঁকির কারণে প্রতিটি চালান আলাদা অনুমোদন ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করছে।

যদি প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে কাতারের বাজেটে বড় ঘাটতি, এলএনজি ক্রেতাদের বিকল্প উৎস খোঁজা, পর্যটন খাতের স্থবিরতা এবং বিদেশি কর্মী-নির্ভর অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। আর যদি দ্রুত সমাধান আসে, তাহলেও রাস লাফানের ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস


সম্পর্কিত নিউজ