{{ news.section.title }}
হাওড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
সম্প্রতি হাওড় এলাকায় জমিতে পানি ঢুকে যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার। রোববার, ৩ মে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে কোরবানির পশুর চাহিদা, সরবরাহ এবং পরিবহন নিশ্চিতকরণ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে হাওড়ের সাম্প্রতিক ফসল ক্ষতি এবং কোরবানির পশু ব্যবস্থাপনা, দুই বিষয়েই সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রী।
হাওড় এলাকায় পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান কাটার মৌসুমে এমন ক্ষতি কৃষকদের জন্য বড় চাপ তৈরি করে। তবে মন্ত্রী বলেন, হাওড় এলাকায় কিছু ফসল নষ্ট হলেও তা খুব বড় পরিমাণ নয়। এরপরও যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে সরকার থাকবে।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, হাওড় এলাকায় যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের তিন মাস সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে সহায়তা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
হাওড়ের ফসল রক্ষায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, হাওড় এলাকায় ফসল রক্ষায় বেরিবাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি কমাতে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশের হাওড় অঞ্চল দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর বোরো মৌসুমে হাওড়ের বিস্তীর্ণ জমিতে ধান উৎপাদন হয়। কিন্তু আগাম পানি, অতিবৃষ্টি বা বাঁধ দুর্বলতার কারণে ফসল ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। তাই স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি, ফসল রক্ষা বাঁধ সময়মতো নির্মাণ, সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে কোরবানির পশুর চাহিদা ও সরবরাহ নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি বছর দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। অন্যদিকে কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি।
এই হিসাব অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় দেশে ২২ লাখ ২৭ হাজারের বেশি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কোরবানির পশু নিয়ে দেশে কোনো সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। অর্থাৎ স্থানীয় খামারি ও কৃষকদের উৎপাদিত পশু দিয়েই এ বছরের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এবং অন্যান্য পশু রয়েছে। দেশীয় উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নজরদারি করবে। কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না। সরকারের লক্ষ্য, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষা করা এবং কোরবানির বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
হাট ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়েও সরকারের প্রস্তুতির কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, হাট এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে। প্রয়োজনে সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
অনলাইনে পশু কেনাবেচা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন তিনি। মন্ত্রী জানান, অনলাইনে পশু বেচাকেনায় খাজনা বা হাসিল দিতে হবে না। এতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশু কেনাবেচা উৎসাহিত হতে পারে এবং ক্রেতাদের জন্য বাড়তি খরচ কমতে পারে।
কোরবানির পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পশু পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে সড়কপথে নজরদারি বাড়ানো হবে।