এনসিপিতে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে যা বললেন মোনামি

এনসিপিতে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে যা বললেন মোনামি
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে সদ্য সরে দাঁড়ানো শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্পর্কে তার ইতিবাচক ধারণা থাকলেও আপাতত সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে মোনামি বলেন, ‘এনসিপিকে আমার পছন্দ কারণ এটা ব্লুমিং পলিটিক্যাল পার্টি। আমাদের সেন্ট্রিক পলিটিক্স করার জন্য বাংলাদেশে একটা পলিটিক্যাল পার্টি দরকার ছিল। আমার মনে হয় সেখানে এনসিপি একটা জায়গা করে নিতে পারছে। সামনের দিকে আরও ভালো হয়তো করবে ইনশাআল্লাহ।’

 

তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মধ্যপন্থাভিত্তিক বা ‘সেন্ট্রিক’ রাজনীতির জায়গা তৈরি হওয়া প্রয়োজন ছিল এবং এনসিপি সেই শূন্যতা কিছুটা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে বলেই তার কাছে মনে হয়েছে। তবে দলটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মোনামি বলেন, ‘যদি আমি মনে করি যে, হ্যাঁ, সে সেন্ট্রিক পলিটিক্স ধরে রাখতে পেরেছে এবং সামনে আমার কোনো রোল আছে, সুযোগ আছে, তাহলে দেখা যাবে। কিন্তু সেটা ভবিষ্যতে অনেক সময় পরে কিংবা খুব দ্রুতও নয়।’

 

একই সঙ্গে তিনি পুনরায় জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো আগ্রহ তার নেই। মোনামির ভাষায়, ‘আমি এর আগেও আরেকটা ইন্টারভিউতে বলেছিলাম যে আমি রাজনীতিতে আসতে চাই না। তো আমি এখনো সেটাই মেনটেইন করছি। আমি আসতে চাই না।’

 

গত সোমবার (১১ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি। ওই দিন সকালেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রোক্টর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছি।’ তার এই পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও নানা ধরনের জল্পনা। বিশেষ করে অনেকেই বিষয়টিকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন।

 

এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, মোনামির পদত্যাগকে কেবল আবেগ বা অভিমান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি ভবিষ্যতের বড় কোনো অবস্থানের প্রস্তুতিও হতে পারে।

 

নীলা ইসরাফিল লিখেছেন, ‘যারা শেহরিন আমিন মোনামীর পদত্যাগকে অভিমান বলে ভাবছেন, তারা হয়তো রাজনৈতিক অঙ্কটা এখনো ধরতে পারেননি। ক্ষমতার করিডরে ছোট ছোট ত্যাগ খুব কমই নিছক ত্যাগ হয়, বেশিরভাগ সময়ই তা বড়ো প্রাপ্তির হিসেবি বিনিয়োগ।’

 

আরেক অংশে তিনি বলেন, ‘এতটা মহানুভবতার গল্পে আমি অন্তত বিশ্বাসী নই যে শেহরিন আমিন মোনামীর এই পদত্যাগ নিছক আত্মত্যাগের উদাহরণ। ক্ষমতার রাজনীতিতে পদ ছাড়াও অনেক সময় এক ধরনের বিনিয়োগ, আজ একটি চেয়ার ছেড়ে, কাল আরও বড়ো চেয়ারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার হিসেবি পদক্ষেপ।’

 

পোস্টের শেষাংশে নীলা ইসরাফিল পদত্যাগের ঘটনাকে ‘নিখুঁত পরিকল্পনা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘এ এক নিখুঁত meticulous plan-নীরব, পরিমিত, কিন্তু লক্ষ্যভেদী। সময়ই বলে দেবে, এই পদত্যাগ সমাপ্তি ছিল, নাকি বড়ো কোনো প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি।’

 

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে মোনামির সরে দাঁড়ানো এবং পরবর্তীতে এনসিপি নিয়ে তার ইতিবাচক মন্তব্য-দুই ঘটনাই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও তিনি নিজে আপাতত রাজনীতিতে না আসার অবস্থানেই অনড় রয়েছেন, তারপরও ভবিষ্যতে তার ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে বিভিন্ন মহলে।


সম্পর্কিত নিউজ